দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

লামায় অবৈধ বালু উত্তোলনে বেপরোয়া ফারুক আমজাদ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: আতংঙ্কে স্থানীয়রা

বান্দরবান জেলার লামার আজিজনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড পূর্বচাম্বি একাধিক পয়েন্টে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি দলীয় ক্ষমতা ও পরিচয় দিয়ে যুবদল সভাপতি মোঃ ফারুক একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রকাশ্যে দিনরাত অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।ফলে প্রতিবেশী সাধারণ নিরীহ মানুষের কৃষিজমি, পরিবেশ জৈব বৈচিত্র্য ধংস এবং সরকারের অবকাঠামো হিসেবে নির্মাণধীন গ্রামীণ সড়ক গুলো মারাত্মক ক্ষতিসহ হুমকির মুখে পড়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,আজিজ নগর ইউনিয়নের ডিগ্রিখোলা,ধুইল্যাপাড়া,আমতলীপাড়া,তিল্লাছড়াসহ পূর্বচাম্বিতে বিভিন্ন পাড়ায় দিন-রাত ৭/৮টি সেলুমেশিন বসিয়ে ছোট ছোট নদী ও ঝিরি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া প্রভাবশালীদের সহায়তা নিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ফারুক ও আমজাদ সিন্ডিকেট।একাধিক সূত্রে মতে বান্দরবান জেলার বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।অভিযোগ উঠেছে,তাদের প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র লাঠি সোটা হাতে প্রদর্শন করে এলাকায় বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করছে এবং অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে চাইলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয় এই বালুখেকো সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের কাছে। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এই দুইজনের নাম এখন আতঙ্কের ত্রাস অদৃশ্য শক্তি ও অবৈধ সকল ব্যবসার ডন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আরও  পড়ুন, সাংবাদিক টুটুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে গাজীপুরে মানববন্ধন, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিএলাকার অনেকের মনে প্রশ্ন জেগে উঠেছে জিরো থেকে হিরো রাতারাতি যেমনটা আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতো। অবৈধ বালু উত্তোলন,পাচারকারী সিন্ডিকেট মূলহোতা বালুখেকো মোঃ ফারুক ও লাইন কন্টোলার বালুখেকো মোঃ আমজাদ তাদের নাকি অনেক ক্ষমতা,এ কারণে অনেকেই আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পান না। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টও ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদী ও ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশ বাদী সংগঠনের নেতা ও সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন— রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা কি প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান?এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িতরা যত বড় নেতা ও প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।এলাকাবাসী জানান এই আজিজনগর পূর্বচাম্বিতে অতি দূত সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালুখেকো সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ এবং ব্যবস্থাগ্রহণ করা দরকার।

লামায় অবৈধ বালু উত্তোলনে বেপরোয়া ফারুক আমজাদ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: আতংঙ্কে স্থানীয়রা