বলিউডে সাফল্য অর্জন ও বৈচিত্র্যময় অভিনয়ের জন্য বিগত তিন দশক ধরে নিরলস কাজ করে গেছেন আমির খান। তবে কাজের পেছনে বিরামহীন ছুটতে গিয়ে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় ও পারিবারিক সম্পর্ক যে হারিয়ে ফেলেছেন, তা দেরিতে হলেও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন ৬১ বছর বয়সী এই তারকা অভিনেতা। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে এভাবেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।অনুষ্ঠানে করোনাকালের দিনগুলোর স্মৃতিতর্পণ করতে গিয়ে আমির খান জানান, প্রায় ৩০ বছর তিনি কাজের পেছনে এতটাই অন্ধের মতো মেতে ছিলেন যে পরিবার ও সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার বিষয়টি খেয়ালই করেননি। কথা বলার সময় একপর্যায়ে চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান এই অভিনেতা। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারীর সময় তাঁর মনে গভীর এক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। তিনি বুঝতে পারেন যে, কাজের ফাঁকে তাঁর সন্তানেরা বড় হয়ে গেছে এবং সম্পর্কের সমীকরণগুলো বদলে গেছে। তবে এই আফসোসকে ইতিবাচকভাবে দেখে তিনি মন্তব্য করেন, "আমি খুব খুশি যে এই ভাবনা আমার ৫৬ বছর বয়সে এসেছে, ৮৬ বছর বয়সে নয়। কারণ তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যেত।"আরোও পড়ুন,স্টার স্টোরিজের অতিথি মন্দিরা চক্রবর্তীআলোচনায় নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কঠিন সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছবি দিয়ে আকাশচুম্বী সাফল্য পাওয়ার পর পর টানা বেশ কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হলে তিনি চরম মানসিক হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন।উল্লেখ্য, এবারের সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমির খানকে মর্যাদাপূর্ণ ‘স্ক্রিন আইকন’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর প্রযোজিত মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘লগান’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে উৎসবে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বর্তমানে তিনি পেশাগত কাজের পাশাপাশি পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের জন্য সচেতনভাবে সময় বের করছেন বলে জানান।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।