ঝিনাইদহে ওসির সাথে বাকবিতন্ডায়র জের ধরে সাংবাদিককে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ১৪ ঘণ্টা সাংবাদিককে থানায় আটকে রেখে নিজের দাদা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ।মামলার বাদী নিজে বলছেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে, হত্যার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারই হলেন আসামী। শনিবার রাত ১২:০০ টায় ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আশরাফুল ইসলাম (৩২) নামের এক সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে থানায় প্রায় ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর একটি হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জের বড়দা ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে শৈলকুপা থানায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেসময় পর্যন্ত তাকে আটকে রাখার কোনো কারণই জানাচ্ছিলেন না পুলিশ। ওই সাংবাদিকের পরিবারের দাবি, ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অথচ গ্রেপ্তার দেখানোর মামলায় হত্যার শিকার মোহন শেখ তার আপন চাচাতো দাদা ছিলেন। আরও পড়ুন, অন্ধকারে পরীক্ষা: গঙ্গাচড়ায় বিদ্যুৎবিহীন এসএসসি, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরাআশরাফুল ইসলাম বাংলা এডিশনের ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি এবং ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শৈলকুপা উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আক্কাচ আলী ছেলে। পূর্বে তার নামে কোনো মামলা নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, শনিবার রাতে তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম স্ত্রীর বাবার বাড়ি ব্রাহিমপুর গ্রামে অবস্থান করছিলেন। এসময় রাত ১২টার দিকে সাংবাদিক আশরাফুলকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বড়দা ব্রিজ এলাকায় ডেকে আনেন শৈলকুপা থানার এসআই তরিকুল ইসলাম। থানার ওসি ওই সাংবাদিকের সঙ্গে চা খাবেন জানিয়ে তাকে শৈলকুপা থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে থানায় তাকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।আশরাফুলের বাবা আক্কাচ আলী বলেন, ‘আমার ছেলে পেশায় একজন সংবাদকর্মী। সে দীর্ঘদিন ধরে জেলা শহরে বসবাস করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকলেও পুলিশ তাকে থানায় ১৪ ঘণ্টা আটকে রেখে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। তার দাবি, ‘আমার ছেলে নিরপরাধ। যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেই মামলার বাদী আমার আপন চাচাতো ভাই। যিনি হত্যার শিকার হয়েছেন তিনি আমার ছেলের আপন চাচাতো দাদা। আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে।’আরও পড়ুন, শ্রীপুরে বিএনপি নেতার ওপর হামলা, নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগমামলার বাদী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গত ২৩ এপ্রিল সকালে আমার বাবাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় ৪২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করি। অথচ রোববার দুপুরে সেই মামলায় আমার আপন চাচাতো ভাতিজা আশরাফুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমার বাবা হত্যার ঘটনায় ভাতিজা জড়িত নয়। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ভাতিজা সাংবাদিকতা করে, জেলা শহরে থাকে। সে হত্যার সঙ্গে জড়িত নয় জানালেও পুলিশ তাকে আদালতে পাঠালো।’ শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, ‘একটি মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আশরাফুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছিল। এখন সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’ কি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘আদালতে খোঁজ নিয়ে মামলার বিবরণ জেনে নিন।’আরও পড়ুন, বান্দরবানে প্রচণ্ড গরমে বিদ্যালয়ে হিটস্ট্রোক ১৮ জন শিক্ষার্থীপরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, নিহতের সঙ্গে তার নিবিড় পারিবারিক সম্পর্ক বিদ্যমান। মামলার এজাহারে নাম না থাকার পরেও তাকে গ্রেপ্তার এবং স্বয়ং বাদীর আপত্তির বিষয়টি পুলিশের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনাকে ‘আইনের অপপ্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতেই এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা অবিলম্বে ওই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।