দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার দাবি

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে বাড়তি মানসিক চাপও। বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলনের আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান। সম্মেলনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, সমস্যার কথা এবং প্রত্যাশা তুলে ধরে। বরিশাল থেকে আসা ছাত্রী সিনথিয়া আক্তার মনি জানায়, পরীক্ষা চলাকালে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে গণিত বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেনি সে। ফলে গণিতে অকৃতকার্য হলেও বাকি সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীটি। অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আসা এক ছাত্রী জানায়, পদার্থবিজ্ঞান ছাড়া অন্য সব বিষয়ে ভালো নম্বর পেয়েছে সে। আরও পড়ুন,সংসদ মেডিকেল সেন্টারে ফিজিওথেরাপি ও আধুনিক পরীক্ষার যন্ত্রপাতি সংযোজনের প্রস্তাববেশির ভাগ বিষয়ে এ প্লাস, এ কিংবা এ মাইনাস পেলেও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় বন্ধুদের তুলনায় এক বছর পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে তাকে। তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়েছে সে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। প্রচলিত নিয়মে এসব শিক্ষার্থীকে পরের বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। চাইলে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলো অথবা সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের। শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের মতে, নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সেই সক্ষমতাও রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ সার্বিক পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার দাবি