জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১৫৫/৯১নং গুনেরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকা সত্ত্বেও মূল ফটক (গেট) বর্তমানে বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের মূল ফটক বা গেট থাকলেও সেখানে পৌঁছানোর কোনো সড়ক নেই। শিক্ষার্থীদের চলাচলের এই চরম ভোগান্তিকে উপেক্ষা করে এমন অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার সংশ্লিষ্ট ১৫৫/৯১নং গুনেরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য কোনো স্থায়ী বা সরকারি রাস্তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা অন্যের ফসলি জমি, আইল বা ব্যক্তিগত উঠোনের ওপর দিয়ে কোনোমতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষাকালে এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। অথচ, এই মৌলিক সমস্যার সমাধান না করে, বিদ্যালয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে ।ভবন নির্মাণের ভারী সামগ্রী নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও রাস্তা না থাকায় চরম বেগ পেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন— রাস্তা না থাকলে এই বহুতল ভবন কার সুফল বয়ে আনবে? কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়েরা বর্ষার দিনে কাদা পানি মাড়িয়ে স্কুলে যায়।আরও পড়ুন, বিশেষ অভিযানে ১৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটা রাস্তার দাবি জানিয়ে আসছি। রাস্তা না বানিয়ে ফাঁকা মাঠের মধ্যে এই বহুতল ভবন তোলার কোনো মানে হয় না। আগে রাস্তা দরকার, তারপর ভবন।এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিদ্যালয়ের জায়গার সীমাবদ্ধতা এবং চারপাশের জমির মালিকদের আপত্তির কারণে এত বছর ধরে রাস্তা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে বহুতল ভবনের বরাদ্দ সরকারিভাবে আসায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।উপজেলা শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা না থাকার বিষয়টি তারা অবগত আছেন। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি যাতে দ্রুত একটি যাতায়াতের বিকল্প রাস্তা বা সংযোগ সড়ক তৈরি করা যায়, সে ব্যাপারে জমির মালিকদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় জনগণের দাবি, নামমাত্র গেট আর বহুতল ভবন নয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য সবার আগে একটি স্থায়ী চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করা হোক। অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান না হলে নতুন ভবনটি শুধু একটি কংক্রিটের কাঠামো হিসেবেই দাঁড়িয়ে থাকবে, যা শিক্ষার্থীদের কোনো কাজেই আসবে না।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।