মুক্তিযুদ্ধের নায়ক নূর আলীর ৭২তম জন্মদিন পালন
বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইউনিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলীর ৭২তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। গতকাল রাজধানী ঢাকায় হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটার মধ্য দিয়ে তার জন্মদিন উদযাপন করা হয়। এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন নূর আলী।জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নূর আলীর কর্মজীবনের সাফল্য তুলে ধরে কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। পরে নূর আলীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিক গ্রুপের গ্রুপ সিইও সৈয়দ সানোয়ারুল হক, আমাদের সময়ের সম্পাদক ও ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সিইও মো. শাখাওয়াত হোসেন, ইউনিক গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল মোতালেবসহ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার মানুষের জীবনে বৈষম্য ছিল রূঢ় বাস্তবতা। শিক্ষা, চাকরি, প্রশাসন- প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল অবহেলা ও বঞ্চনা। তরুণ নূর আলীর চোখে এই বৈষম্য ছিল অপমানের, ক্ষোভের। ধীরে ধীরে সেই ক্ষোভ রূপ নেয় প্রতিরোধের মানসিকতায়। ১৯৭১ সালের মার্চে দেশজুড়ে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাতে তার ভেতরে জন্ম নেয় এক অদম্য দৃঢ়তা- লড়াই করেই বাঁচতে হবে, বাঁচাতে হবে এই মৃত্তিকার মানুষকে। এই মানসিকতার বারুদ-জমা স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বাধীনতার ঘোষণা। ফলে নিজের জীবন তুচ্ছ করে তিনি নেমে পড়েন মানুষের জীবনরক্ষার যুদ্ধে, ৫৬ হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত প্রিয় মৃত্তিকাকে রক্ষার যুদ্ধে ।আরো পড়ুন , ইলেকশন কমিশনে আপিল শুনানির অষ্টম দিনতবে সেই যুদ্ধের পথ ছিল খুবই বন্ধুর। নিজ এলাকায় যুদ্ধে যাওয়ার মতো সংগঠিত লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। তবু কয়েকজন সাহসী তরুণকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ছোট একটি দল। এরপর ভারতে গিয়ে কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ নেন মোহা. নূর আলী। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা- সব কিছুতেই আলাদা করে নজরে পড়েন। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে পাঠানো হয় সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে। এই যুদ্ধে তিনি বহু সহযোদ্ধাকে হারান। তবে প্রিয় সহযোদ্ধাদের হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি আবার যুদ্ধে নামেন।নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল অচল করে দেন; অতর্কিত হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পও ধ্বংস করে দেন। ধাপে ধাপে শত্রুর যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ডিসেম্বরের শুরুতে অস্ত্র হাতে তিনি ফিরে আসেন নিজ এলাকা ঢাকার নবাবগঞ্জ-দোহারে। পরে বহুল কাক্সিক্ষত বিজয়ের দিন আসে ১৬ ডিসেম্বর।স্বাধীনতার পর মোহা. নূর আলী অস্ত্র ছাড়লেও লড়াই ছাড়েননি। নবোদ্যমে শুরু হয় তার আরও একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পুুনর্গঠনের যুদ্ধ; দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের যুদ্ধ।