কীর্তনখোলার তীরে নিভে গেছে শিপইয়ার্ডের শব্দ, বেকার হাজারো শ্রমিক
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণশিল্প এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। একসময় ব্যস্ততম শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত কীর্তনখোলা নদী তীরের শিপইয়ার্ডগুলো এখন প্রায় নিস্তব্ধ।শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর নৌপথে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, যা শিপইয়ার্ডগুলোকে একের পর এক বন্ধ হতে বাধ্য করেছে।এক সময় বরিশালের বেলতলা, দপদপিয়া এলাকাজুড়ে সুরভী, সুন্দরবন, নিজাম, এম খান ও কে-কাদেরের মতো বড় বড় শিপইয়ার্ডে দিনরাত চলত লঞ্চ নির্মাণের কাজ। বছরে অর্ধডজনের বেশি বিলাসবহুল লঞ্চ তৈরি হতো, যার প্রতিটির নির্মাণব্যয় ছিল প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা।এই শিপইয়ার্ডগুলো থেকেই তৈরি হয়েছিল দেশের অন্যতম বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘সুন্দরবন-১৬’। তবে বর্তমানে নতুন কোনো লঞ্চ নির্মাণ হচ্ছে না।আরও পড়ুন , শ্রমিকদের ওপর হামলায় অনির্দিষ্টকালের বাস চলাচল বন্ধ , যাত্রী ভোগান্তি চরমে২০২৪ সালের শুরুতে সর্বশেষ এম খান শিপইয়ার্ড থেকে একটি লঞ্চ নদীতে নামানোর পর পুরো অঞ্চলে জাহাজ নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৩০০ কোটি টাকার এই শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে। কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন।শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন এই শিল্পে কাজ করার পর এখন তিনি বেকার। তার মতো অসংখ্য শ্রমিক জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ হাওলাদার জানান, যাত্রী সংকট ও কাঁচামালের উচ্চমূল্যের কারণে নতুন লঞ্চ নির্মাণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শ্রমিকদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।অন্যদিকে সুরভী শিপইয়ার্ডের পরিচালক রেজিন-উল কবির বলেন, তাদের শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।সব মিলিয়ে এক সময়ের সমৃদ্ধ এই শিল্প এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ধুঁকছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।