ফুলেল শুভেচ্ছা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও নতুন স্বপ্নের আবহে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীন বরণ-২০২৬। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ আর নতুন প্রত্যয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম দিনটি আনন্দ-উৎসবে কাটিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্মুক্ত মঞ্চে এ নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আমন্ত্রিত অতিথিরা। এ সময় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সোহেল হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে না; এর সঙ্গে প্রয়োজন সততা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। এসব গুণাবলি নিজেদের মধ্যে ধারণ করে ভবিষ্যতে দেশ গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী,আরও পড়ুন,টুঙ্গিপাড়ায় ৩০০ জেলে পরিবারের মাঝে সাড়ে ৭ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বিতরণ গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে. এম. বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিক-উজ্জামান। বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিক ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি সনদ অর্জনের স্থান নয়; বরং জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ভবিষ্যতে কর্মজীবনে প্রবেশের আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিজেদের দক্ষতা, চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। নবীন বরণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা নানা সাজে ও দলবদ্ধভাবে ক্যাম্পাসে আসেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে তাঁদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, শিক্ষকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে তাঁরা দিনটি উপভোগ করেন। নবীন শিক্ষার্থীরা জানান বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও স্মরণীয়। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতা বিকাশ করে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে চান তাঁরা। নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তাঁদের নতুন পথচলা আরও সহজ ও আনন্দময় হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাঁদের সামনে উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার একটি ইতিবাচক দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও নতুন প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে এ নবীন বরণ অনুষ্ঠান গোবিপ্রবির নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি স্মরণীয় সূচনা হয়ে ওঠে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।