দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার নিকটাত্মীয়র বিরুদ্ধে। সালিশের নামে অভিযুক্ত তরুণকে মাত্র সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার সকালের সালিশ মানেননি ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তারা জানিয়েছেন, মামলা করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বজনরা জানান, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ইসলাম নামের ওই তরুণ ভুক্তভোগী কিশোরীকে বাড়ির পাশের নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। একটি পরিত্যক্ত ঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। কাউকে বিষয়টি জানালে মেয়েটিকে হত্যারও হুমকি দেন জাহিদুল। পরে ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে বড় বোনকে বিষয়টি জানায়। পরদিন জাহিদুলের কাছে সকালে কিশোরীর বড় ভাই বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উল্টো চড়াও হন। মামলা করলে খারাপ পরিণামের হুঁশিয়ারিও দেন। গ্রামের বিশিষ্টজনের কাছে জানানো হলে তারা সোমবার সকালে সালিশ ডাকেন। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ইউপি সদস্য ফাহিমা বেগমের উপস্থিতিতে জাহিদুলকে মাত্র সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়।আরও  পড়ুন, লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি, পানির নিচে চট্টগ্রামকিশোরীর বড় ভাইয়ের ভাষ্য, তার বোনটি সহজ-সরল। তার সরলতার সুযোগ নিয়ে জাহিদুল জঘন্য কাজটি করেছে। তারা মীমাংসা না মেনে চিকিৎসার জন্য নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পুলিশের পরামর্শে পরে মেয়েটিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ঘটনার পর পলাতক থাকায় জাহিদুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন ইউপি সদস্য ফাহিমা আক্তার।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।নাসিরনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কিশোরীর পরিবারকে মামলার পরামর্শ দিয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস