ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ফের বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে কসবা পৌর শহরে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে এতে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নিবাহী অফিসার মোঃ ছামিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। আহতরা হলেন, মঈনপুর গ্রামের আশরফ আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৪৮), বিনাউটি গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে সালমান (৩২), বায়েক গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে বাবু (৩০), আড়াইবাড়ি গ্রামের রাশেদ মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩৪) এবং কুটি ঘড়িপুর গ্রামের জীবন মুন্সির ছেলে সাকিব (১৮)। আহতদের অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ফলে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আরও পড়ুন, কক্সবাজারে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, কিশোরগ্যাং সহ ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৮স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজনকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় কসবা পৌর শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় কসবা পৌর সুপার মার্কেটের আশপাশে উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন। উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল হক ইমুকে সভাপতি করে কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত একটি পক্ষ কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। গত বুধবার নতুন কমিটির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। গতকাল শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।