দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

নিখোঁজদের জীবিত ফেরার আশা নেই, নেপালে প্রতীকী শেষকৃত্য

নেপালে ভয়াবহ বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ রয়েছেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তাদের জীবিত উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন অনেক স্বজন। এরই মধ্যে নিখোঁজদের মৃত ধরে নিয়ে প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন শোকস্তব্ধ নেপালবাসী।সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি নুয়াকোটে কয়েকটি পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের স্মরণে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে প্রতীকী দাহ সম্পন্ন করেছে। স্বজনের মরদেহ না পেলেও এই আনুষ্ঠানিকতা তাদের জন্য কিছুটা আধ্যাত্মিক স্বস্তি এনে দিচ্ছে।ত্রিশূলী নদীর তীরে পুরোহিতরা খড় দিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রতীকী অবয়ব তৈরি করেন। পরে কাঠের স্তূপ দিয়ে সেগুলো ঢেকে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। চিতার চারপাশে ধর্মীয় সামগ্রী রেখে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন স্বজনরা।তবে নিখোঁজের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।আড়ও পড়ুন,ইরানের জন্য রাশিয়ার গোপন সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পআগে নিখোঁজ তালিকায় থাকা অন্তত পাঁচ বিদেশি পর্যটক সম্প্রতি ই-মেইল বা ফোনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর ৩২৪ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এরপরও ৩৯টি দেশের ৫৯০ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাবে, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত এক হাজার ২০৪ জন নিহত এবং চার হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের সংখ্যা ৪৩ থেকে কমে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রাতভর পাঁচজনকে নিরাপদে শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়া কয়েক দিনের মধ্যে ড্রোন পরিচালনাকারীদের একটি দল নেপালে পাঠানোর কথাও জানিয়েছে।ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয়ে হিমবাহ ধসে পাথর, বরফ ও গলিত পানি উপত্যকায় নেমে আসার পরই এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত। এতে নদীগুলোর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়।উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে দাফন করছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। আড়ও পড়ুন,খার্গে ভিডিও কি এআইয়ের তৈরি?পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা, মুখের ছবি ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।এদিকে বন্যার্তদের অনেকে আশ্রয়ের জন্য রাজধানী কাঠমান্ডুর দিকে যাচ্ছেন। তিমুরে শহরের প্রায় ৪০০ বাসিন্দা বর্তমানে ইয়েলো গুম্বা মঠে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার সহায়তায় ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।অন্যদিকে, দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে চীনের পক্ষ থেকেও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সীমান্তের গিয়িরং বন্দরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কপথ পুনরায় চালু করতে অস্থায়ী সড়ক নির্মাণ করেছে চীনের উদ্ধারকারী দল

নিখোঁজদের জীবিত ফেরার আশা নেই, নেপালে প্রতীকী শেষকৃত্য