দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ছবি ফাঁসের ভয় দেখিয়ে টাকা-স্বর্ণালংকার আদায়ের অভিযোগ

মাদারীপুরের কালকিনিতে এক গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া এবং তার স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাপ্পি সরদার নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কালকিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।অভিযোগকারী মোসাম্মাত খাদিজা বেগমের স্বামী মিজানুর রহমান। তাদের বাড়ি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বজরুসসার গ্রামে। বর্তমানে খাদিজা তার ছোট দুটি সন্তানকে নিয়ে খাশের হাট বাজারের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। অভিযুক্ত বাপ্পি সরদার একই এলাকার হোসেন সরদারের ছেলে।খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী কাজের সুবাদে চট্টগ্রামে থাকেন। একদিন বাপ্পি সরদার তার কাছে এসে নিজেকে মিজানুর রহমানের বন্ধু পরিচয় দিয়ে স্বামীর মোবাইল নম্বর চান। তিনি নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাপ্পি তার ছোট সন্তানের হাতে থাকা মোবাইল নিয়ে সেখান থেকে খাদিজার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ।খাদিজার দাবি, কয়েকদিন পর রাতে বাপ্পি ফোন করে পরিচয় দেওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। তার সঙ্গে কথা না বললে স্বামীকে মারধরের হুমকি দেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়। এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে বাপ্পি লোকজন নিয়ে তার স্বামী মিজানুর রহমানকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন খাদিজা।অভিযোগে আরও বলা হয়, বাপ্পি খাদিজাকে ভয় দেখিয়ে দাবি করেন, তার কাছে খাদিজার গোপন ছবি ও ভিডিও রয়েছে। টাকা না দিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তার স্বামীকে দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে খাদিজা তাকে নগদ ৩০ হাজার টাকা দেন বলে জানান।আরও  পড়ুন, বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের স্প্রিং ভেঙে সাময়িকভাবে রেল চলাচল বন্ধখাদিজার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন পর আবার টাকা দাবি করা হলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন বাপ্পি তার কানের দুল দিতে বলেন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে চার আনা ওজনের কানের দুল দেন বলে অভিযোগ করেন।খাদিজা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে মিজানুর রহমান বাপ্পির বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চান। এরপর বাপ্পি কয়েকজন লোক নিয়ে খাদিজার ভাড়া বাসায় এসে তাকে ও তার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।এদিকে ওই ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা জুয়েল রানা ও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পি সরদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি এলাকায় ভয়ভীতি দেখান এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেন বলে তারা শুনেছেন। অভিযুক্ত বাপ্পির কাকা বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর ইসলাম সরদারের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি প্রশাসনকে ভয় পান না বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তারা।ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম বলেন, “আমি একজন সাধারণ নারী। আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমাকে ভয় দেখিয়ে টাকা ও কানের দুল নেওয়া হয়েছে। এখন আমাকে ও আমার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তা চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”এ বিষয়ে কালকিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।তবে অভিযুক্ত বাপ্পি সরদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ছবি ফাঁসের ভয় দেখিয়ে টাকা-স্বর্ণালংকার আদায়ের অভিযোগ