কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়ার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারবাজার। শুক্রবার ইতিবাচক কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর মার্কিন পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে দরপতন অব্যাহত ছিল। এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি মন্থর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং প্রযুক্তি খাতে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। এতে নাসডাকসহ প্রধান প্রযুক্তি সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন ঘটে। বিশেষ করে চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি চাপের মুখে পড়ে। এর মধ্যে শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, দেশটির অর্থনীতিতে নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি। ইতিবাচক এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরিয়ে আনে। বৃহস্পতিবার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ পতনের পর শুক্রবার নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ করে। আরও পড়ুন,গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সমীকরণএকই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দিন শেষ করে।বৃহস্পতিবার বড় অঙ্কের বাজারমূল্য হারানো এনভিডিয়া, স্পেসএক্স ও টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও শুক্রবার কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬ শতাংশ কমেছে। দেশটির চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদরও ১০ শতাংশের বেশি কমে যায়। ইউরোপের বাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনের প্রধান সূচকগুলো পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহের লেনদেন শেষ করে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ০১ শতাংশ। বিশ্ববাজারে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই উত্থান-পতন দেখা যাচ্ছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।