দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রাজবাড়ীতে ৬৪ কোটি টাকার গড়াই সেতুর কাজ শেষ হয়নি ৬ বছরেও

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার নাদুরিয়া ঘাটে গড়াই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ ছয় বছরের বেশি সময়েও শেষ হয়নি। ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ শেষ করতে তিন দফায় সময় বাড়ানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা যায়নি। এতে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩ জুন সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৩ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরে তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর বর্ধিত সময়সীমা শেষ হলেও সেতুর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রয়েছে।সম্প্রতি নির্মাণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেতুটির চারটি স্প্যান ও দুটি গার্ডার বসানো বাকি। রাজবাড়ী প্রান্তে মাত্র তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শ্রমিকসংকটের কারণে নির্মাণকাজের গতি কমে গেছে বলে জানা গেছে।সেতু না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নাদুরিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহকে নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ উচ্চবিদ্যালয়ে যেতে হয়। সেতু নির্মাণের আশায় ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল সে। তার আশা ছিল, সেতু চালু হলে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যেতে মাত্র ১০ মিনিট লাগবে। কিন্তু তার স্কুলজীবন প্রায় শেষের দিকে, এখনো চালু হয়নি সেতুটি।আরও  পড়ুন, মাদারীপুরের চাঞ্চল্যকর মানব পাচার মামলা: প্রধান অভিযুক্ত ইমরান খান গ্রেপ্তারলাঙ্গলবাঁধ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ী থেকে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী তাঁর বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। নদী পারাপারের সমস্যার কারণে তারা নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না। সেতুটি চালু হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক পিকুল হোসেন বলেন, নিয়মিত মজুরি না পাওয়ায় ১৫ জন শ্রমিকের মধ্যে ১২ জন কাজ ছেড়ে চলে গেছেন। গত চার মাস ধরে তাঁরাও মজুরি পাননি বলে দাবি করেন তিনি।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবদুল হামিদ বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও এক বছর সময় লাগবে। এ জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাসান বলেন, সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে কাজের গতি কমেছে। জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ক্ষতিপূরণ পরিশোধের পর সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাবে। দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছেন তাঁরা।সেতুটি চালু হলে রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। তবে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ ঝুলে থাকায় কবে নাগাদ সেতুটি চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

রাজবাড়ীতে ৬৪ কোটি টাকার গড়াই সেতুর কাজ শেষ হয়নি ৬ বছরেও