দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সাভারে ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরনে স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ, জানেনা ফায়ার সার্ভিস

সাভারে মশার কয়েল ধরানোর জন্য দিয়াশলাই জ্বালাতেই ঘরে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরনের আগুনে এক পোশাক শ্রমিক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার ( ২৪ জুলাই ) ভোররাতে দগ্ধ ওই শ্রমিক দম্পতিকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাভার পৌর এলাকার মজিদপুর দিঘীরপাড় মসজিদবাড়ি মহল্লায় নূর মোহাম্মদের মালিকানাধীন দ্বিতীয় তলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন, মোঃ কাওসার (২৮) ও তার স্ত্রী রুবি আক্তার (২৪)। তারা দুজনই স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার রিয়াজউদ্দিন মাতোপাড়া গ্রামে। তবে আগুন লাগার বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এরকম আগুনের কোন সংবাদ আমরা পাইনি। আমি ব্যস্ত আছি, আপনি অফিসে আসেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বলছেন, আগুনে কায়সারের শরীরে ১০০ শতাংশ এবং তার স্ত্রী রুবির শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। পোড়ার পরিমাণ বেশি থাকায় তাদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।থানা পুলিশ জানায়, নূর মোহাম্মদের মালিকানাধীন একটি দুইতলা ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায় থাকতেন ওই শ্রমিক দম্পতি।আরও  পড়ুন, গাজীপুরে পরিত্যক্ত পিকআপ ভ্যান থেকে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার রাতে ঘরের ভেতরে কয়েল জ্বালানোর সময় দিয়াশালালাই জ¦ালালে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে দুজনই দগ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।দগ্ধ কাওসারের বাবা সীমান শেখ বলেন, তার ছেলে ও পুত্রবধূ যে দোতলা ভবনের নীচতলায় ভাড়া থাকতেন সেই ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়া মূল গ্যাস লাইনের পাইপে দীর্ঘদিন ধরে লিকেজ ছিল। গ্যাস লিকেজের বিষয়টি বারবার বাড়ির মালিককে জানানো হলেও সেটি মেরামত করা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তারা ঘরে মশার কয়েল ধরানোর জন্য দিয়াশলাই জ্বালাতেই ঘরের ভিতরে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরন থেক আগুন ধরে যায়। এসময় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়। বাড়ির মালিক নূর মোহাম্মদ জানান, রাতের খাবার শেষে ঘুমানোর আগে তারা রুমে একটি মশার কয়েল জ্বালিয়েছিলেন। তার ধারণা, ওই কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। রাতে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়। ধোঁয়ায় পুরো কক্ষ আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা বের হতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কাওসার ও রুবী সেমিপাকা দুইতলা ভবনের নিচতলার যেখানে ভাড়া থাকতেন তাদের কক্ষে কোনো গ্যাসের চুলা ছিল না। রান্নার ব্যবস্থা ছিল ভবনের অন্য পাশে। ফলে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

সাভারে ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরনে স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ, জানেনা ফায়ার সার্ভিস