দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

গোপালগঞ্জে সরকারি পুকুর ও সড়কের গাছ কাটার পৃথক অভিযোগ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে সরকারি সম্পত্তি ও সড়কের গাছ কেটে নেওয়ার পৃথক দুটি অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুর ইজারা নিয়ে পুকুরপাড়ের মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, গোপীনাথপুর পশ্চিম পাড়া সড়কের পাশের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই বাদশা মোল্লার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপীনাথপুর ইউনিয়নে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি পুকুর সম্প্রতি মাছ চাষের জন্য ইজারা নেন রাজা মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পুকুরপাড়ে থাকা প্রায় ২০টি মূল্যবান ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর মধ্যে মেহগনি, আম ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি,এসব গাছের আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা। এ বিষয়ে রাজা মিয়া বলেন, মাছ চাষ ও পুকুর পরিষ্কারের জন্য গাছ ও ডালপালা কাটা হয়েছে। তবে গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কোনো বৈধ অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, গোপীনাথপুর পশ্চিম পাড়া সড়কের পাশ থেকে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাদশা মোল্লার বিরুদ্ধে।আরও  পড়ুন, এসি ল্যান্ড ছাড়া দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ সদরে ভূমি সেবায় চরম ভোগান্তি, দ্রুত পদায়নের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে সড়কের পাশের গাছ কেটে নেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি এবং প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দাপটে সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেলা পরিষদের পুকুরপাড় কিংবা গ্রামীণ সড়ক—কোথাও সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে নিয়মের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে পাইকেরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার শ্যামল কুমার রায় বলেন, অভিযুক্ত বাদশা মোল্লা খুবই অসুস্থ। কেটে নেওয়া গাছগুলো চেয়ারম্যানের জিম্মায় রয়েছে। বাদশা মোল্লা সুস্থ হয়ে এলে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে বাদশা মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সম্পত্তি বা সড়কের গাছ কাটার অধিকার কোনো ইজারাদার বা ব্যক্তির নেই। দুটি ঘটনার বিষয়েই খোঁজ নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জে সরকারি পুকুর ও সড়কের গাছ কাটার পৃথক অভিযোগ