দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শ্যামনগরে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ

উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ প্রতিরোধী সম্প্রদায় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘দুর্যোগ প্রতিরোধী সম্প্রদায় স্থাপন (ইডিআরসিএস) প্রকল্প-২’-এর প্রজেক্ট ইনসেপশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, প্রস্তুতি জোরদার এবং সম্মিলিতভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওলিউর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিয়ারাজ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদবীন সফিক, ওসিসি কর্মকর্তা প্রনব বিশ্বাস, শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিপ্লব হোসেন, আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু এবং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। আরও পড়ুন,ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, সাতক্ষীরার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তারসভায় জানানো হয়, নবলোক পরিষদ ও অ্যাক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে এবং সিবিএম গ্লোবালের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, শ্যামনগর একটি দুর্যোগপ্রবণ উপজেলা। এখানকার দুর্যোগ মোকাবিলার উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত সময়োপযোগী। শুধু দুর্যোগের সময় ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান নয়, বরং দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর সক্ষমতা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। দুর্যোগের সময় নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।আরও পড়ুন,পাটগ্রামের ব্যাঙেরবাড়ি সীমান্তে লাইট বন্ধ করে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের তাই তাঁদের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁরা আরও আশা প্রকাশ করেন, ইডিআরসিএস প্রকল্প-২ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শ্যামনগরের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগ সচেতনতা বাড়বে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হবে এবং সামগ্রিকভাবে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

শ্যামনগরে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ