গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন তারেকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রাণনাশের হুমকি এবং ডিজিটাল প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওসির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. সোহেলকেও অভিযুক্ত করেছেন এক তরুণী। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। অভিযোগে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর পাঁচ মাস আগে ব্যক্তিগত একটি আইনি সহায়তার প্রয়োজনে কাশিমপুর থানায় গিয়ে তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইফতেখার হোসেন তারেকের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই নারীর। পরে তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্পর্কের পুরো সময়জুড়ে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিয়ের আশ্বাস দেন ইফতেখার হোসেন তারেক। এই আশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বন্ধু সোহেলের বাসায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রলোভনে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়ে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান ওই কর্মকর্তা। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় ওসির ঘনিষ্ঠ সহযোগী সোহেল তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। এমনকি ওসির পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কটূক্তি করা হয়। একপর্যায়ে ওসি নিজেও তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। আরও পড়ুন,বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ২লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত চার দিন আগে ভুক্তভোগী নারী গাজীপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগকারীর দাবি, বিষয়টি জানার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ওসি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহযোগী সোহেলসহ আরও একজনকে তাঁর বাসায় পাঠান। তাঁরা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে যান এবং সেখানে থাকা কল রেকর্ড ও চ্যাটসহ গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলেন।তবে ওই নারীর দাবি, আগেই তিনি কথোপকথনের কিছু সংবেদনশীল অডিও ক্লিপ, একটি ছবি এবং অন্য নারীদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা ওসির কিছু ব্যক্তিগত ছবি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীদের ভয়ে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং তাঁর পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। একজন নাগরিক হিসেবে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন তারেক ও তাঁর সহযোগী মো. সোহেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।