দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

২০২৭ সালে কাতারএনার্জি দেবে ২৬টি এলএনজি কার্গো

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও কাতার-ওমানের সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে আগামী ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির সূচি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পুরো বছরের পরিকল্পনা এখনই না করে পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনা প্রশমিত হলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর কয়েকটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ফোর্স ম্যাজিউর' ঘোষণা করায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আরও পড়ুন,রাজধানী ও মফস্বলের বাজারদরে বিশাল ফারাকশুরুতে ২০২৭ সালে ১১৫টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে চুক্তিবদ্ধ ১২৮টির মধ্যে মাত্র ৭১টি কার্গোর সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। আগামী বছর চুক্তিবদ্ধ ৪০টি কার্গোর মধ্যে কাতারএনার্জির কাছ থেকে ২৬টি (৬৫%) এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৮টি সহ মোট ৪৪টি কার্গো পাওয়ার আশা রয়েছে। তবে ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওকিউটি এখন পর্যন্ত কোনো কার্গো নিশ্চিত করেনি এবং ব্রেন্ট ক্রুডের বদলে জেকেএম সূচকে দাম নির্ধারণের শর্ত দিয়ে ১৬টি কার্গোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা পেট্রোবাংলা প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যান্য সরবরাহকারীর মধ্যে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক 'গানভর ইউএসএ' থেকে ৬টি এবং ফ্রান্সের 'টোটালএনার্জিস' থেকে ১২টি কার্গো পাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 'এক্সেলেরেট গ্যাস' থেকে চুক্তিবদ্ধ ১৪টির মধ্যে ৯টি নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিটি এলএনজি কার্গো থেকে পুনঃগ্যাসীকরণের পর প্রায় ২,৯০০ থেকে ৩,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় বাংলাদেশকে চড়া দামে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে, যা সরকারি ভর্তুকির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এলএনজি আমদানিতে সরকারের ভর্তুকি দাঁড়িয়েছে ১০,৩০০ কোটি টাকা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কৌশল নিয়েছে সরকার।

২০২৭ সালে কাতারএনার্জি দেবে ২৬টি এলএনজি কার্গো