সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ সাড়ে ৯% মুনাফা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দেওয়া হবে। এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের সঞ্চয় হিসাবের বিপরীতে এই মুনাফা প্রযোজ্য হবে। চলতি জানুয়ারি মাস থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে এবং জানুয়ারির মুনাফা আগামী মাস থেকে পরিশোধ করা হবে।’ গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে কিছু ব্যক্তি ও ব্যাংকারের পক্ষ থেকে ‘উসকানি, গুজব ও অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পরই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় গভর্নর বলেন, ‘আমানতকারীদের মুনাফা প্রদানের বিষয়টি সরকার প্রদত্ত। আন্তর্জাতিক নীতি অনুযায়ী এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো মুনাফা পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু সরকার আমানতকারীদের স্বার্থে এটি দিচ্ছে।আহসান এইচ মনসুর আরো বলেন, ‘সব আমানতকারীকে বাজারদরে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য আমানতকারীদের ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে। তবে যেসব আমানতকারী বর্তমানে তাদের মূল অর্থ তুলতে পারছেন না, তাদের ক্ষেত্রে জানুয়ারি থেকেই আমানতের ওপর সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘মাসিক সঞ্চয় স্কিমের আওতাভুক্ত হিসাবগুলোতে প্রতি মাসেই নিয়মিত মুনাফা প্রদান করা হবে।আরও পড়ুন, ফ্ল্যাট-জমির নিবন্ধন খরচ ৫০ শতাংশ কমানোর সুপারিশমাসভিত্তিক যে মুনাফা হবে, তার পুরো টাকাই গ্রাহকরা তুলতে পারবেন।’ প্রতি মাসের শুরুতে আগের মাসের মুনাফা হিসাবভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। আমানতকারীদের একসঙ্গে সব টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘স্লুইস গেটের পানি একেবারে ছেড়ে দিলে যেমন বন্যা হয়, তেমনি সব টাকা একসঙ্গে দেওয়া যাবে না। নিয়ন্ত্রিতভাবে ধাপে ধাপে দিতে হবে।’ এর আগে ১৪ জানুয়ারি গভর্নর ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতিতে কোনো মুনাফা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।তবে ব্যাপক সমালোচনা ও আন্দোলনের মুখে এক সপ্তাহের মাথায় সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে দুই বছরের জন্য ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নরের হিসাবে, এ হারে মুনাফা দিতে সরকারের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। যদিও আন্দোলনকারীরা এই হারেও সন্তুষ্ট হননি। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে গভর্নর বলেন, কিছু লোক অর্থের বিনিময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উসকানিমূলক অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে।