দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রেমিট্যান্স-রিজার্ভে স্বস্তি, তবে অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোলেও এখনো কাটেনি বড় ধরনের চাপ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগে দুর্বলতা, রপ্তানিতে স্থবিরতা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।তবে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে।মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির—এমসিসিআই ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।আরও  পড়ুন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সীমার বাইরে আমানত তুলতে পারবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরাউচ্চ সুদহার, তারল্য সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক রয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প ও উৎপাদন খাতেও। তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ এবং উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ হয়েছে।অন্যদিকে রাজস্ব আদায়েও বড় ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর আদায় করেছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি হয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়নও কমেছে। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, দুর্নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দুর্বলতাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এমসিসিআই।তবে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বৃদ্ধি অর্থনীতিতে ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাত শক্তিশালী করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়ানো এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রেমিট্যান্স-রিজার্ভে স্বস্তি, তবে অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপ