কথা রাখলেন সদরঘাটের ওসি, ৭২ ঘণ্টার আগেই ৬ ঘণ্টায় ইয়াবা স্পটে অভিযান
চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানাধীন দারোগারহাট রোডে ঐতিহ্যবাহী বার্মা মসজিদ ও স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ইয়াবা বেচাকেনার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে সদরঘাট থানা পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান) এম মিজানুর রহমানের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হলে সদরঘাট থানার সদ্য যোগদান করা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ জানিয়েছিলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করবেন।কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই, মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগের কেন্দ্রস্থলে একরাম মোল্লা (ওসি সদরঘাট) সরাসরি নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৫১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ৬২ হাজার টাকা। এ ঘটনায় এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশের এই দ্রুত অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত মাঠপর্যায়ে পদক্ষেপ নিয়ে সদরঘাট থানা পুলিশ একটি কার্যকর বার্তা দিয়েছে।সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ একরাম উল্লাহর সরাসরি নেতৃত্বে এসআই মিজানুর রহমান চৌধুরী, পশ্চিম মাদারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।আরও পড়ুন, নরসিংদীতে চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক আলোচনা সভাপুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদরঘাট থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ি দারোগারহাট রোড, সানি টিউটোরিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে জসিম সওদাগরের বাড়ির প্রবেশ পথের কাঁচা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়, হাসিনা আক্তার (৪৫)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নারীর হেফাজত থেকে ৫১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রয়ের নগদ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও "সদরঘাটে মসজিদ-স্কুলের পাশেই ইয়াবার হটস্পটের অভিযোগ" শিরোনামে আমাদের প্রকাশিত অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্ব -১ এ স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উল্লেখিত এক ব্যক্তিসহ আরো এক নারীকেও উক্ত মামলায় আসামি করা হয়েছে।ওসি একরাম উল্লাহর কাছে এর আগে স্থানীয়দের অভিযোগ ও মাদক বিস্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি।আরও পড়ুন, ঝিনাইদহে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা ও ১ লাখ টাকা জরিমানা সদরঘাট এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীর স্থান হবে না।” তিনি আরও বলেন, “হয় তাদের মাদক ব্যবসা ও সেবন ছাড়তে হবে, নয়তো এলাকা ছাড়তে হবে, আর তা না হলে আইনের মুখোমুখি হয়ে জেলে যেতে হবে। আমি যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন মসজিদ ও সচেতনতামূলক সভায় এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, দারোগারহাট রোডের ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। মসজিদ ও স্কুলের কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।তাদের দাবি ছিল, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদক সরবরাহের উৎস, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং অর্থের যোগানদাতাদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।সদরঘাট থানা পুলিশের এই অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।সদরঘাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিত চলবে। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ৬ ঘণ্টার এই অভিযান যেন একটি ধারাবাহিক কার্যক্রমের সূচনা হয় এবং সদরঘাট এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হয়।