ইউজিসির নির্দেশনা ও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ জন ডে-লেবার ও থোক বরাদ্দের কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসা এসব কর্মচারীর মধ্যে অনেকেই ১০ থেকে ২০ বছর ধরে স্থায়ী নিয়োগের আশায় দায়িত্ব পালন করছেন। হঠাৎ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক বা থোক বরাদ্দের কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব কর্মচারীর একটি অংশ পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘ এক থেকে দুই দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছেন।আরও পড়ুন, বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদে হরমুজ পারাপারে ইরানের নির্দেশনা মানার আহ্বান রাষ্ট্রদূতেরউপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউজিসির চিঠির ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর বেতন-ভাতা বহনের জন্য অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আপাতত তাঁদের বেতন-ভাতা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সংকট থাকলে প্রয়োজনীয় পদের চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠাতে হবে। ইউজিসি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন দেবে। এ প্রক্রিয়ায় বর্তমানে কর্মরতদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে। এদিকে কর্মচারীদের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে উপাচার্য জানান, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত তিন মাসের বকেয়া বেতন কষ্ট করে হলেও পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।