দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ জড়িত ছিল: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগেরই একটি গ্রুপ হত্যা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এতে স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয় এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-কলহের সৃষ্টি হয়। এরই পরিণতিতে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটে জেলা বিএনপি আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসে। হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও মোশতাক শেখ মুজিবকে কবুতরের মাংস দিয়ে ভাত খাইয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মোশতাকের মন্ত্রিসভায় শেখ মুজিবের মন্ত্রিসভার তাহের উদ্দিন ঠাকুরসহ ২১ জন মন্ত্রী শপথ নেন। ক্ষমতা দখলের জন্য যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারাই হত্যাকারী বলে মন্তব্য করেন তিনি। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ১৫ আগস্টের পর দেশে একের পর এক বিদ্রোহ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়ে। এ সময় জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। পরে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে মুক্ত করেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ রাজপথে নেমে এসে স্লোগান দেন, ‘সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, গণতন্ত্রের মুক্তি চাই।’আরও পড়ুন, ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বরিশালে উত্তর জেলা বিএনপির র‍্যালিতিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং সব মানুষের রাজনীতি করার অধিকার নিশ্চিত করেন। এর ধারাবাহিকতায় বিলুপ্ত আওয়ামী লীগকেও পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়। অথচ শেখ মুজিব নিজেই বলেছিলেন, ‘যেদিকে তাকাই শুধু দেখি চোরের দল আর চাটার দল।’ জিয়াউর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের ধারণা ছিল, জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলে বিএনপি হারিয়ে যাবে। কিন্তু তাঁর জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে, দেশের মানুষের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা ছিল। আলোচনা সভা শেষে রেলওয়ে শ্রমিক দল কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিশন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবুল বাশার সুমন, যুবদলের আহ্বায়ক ভিপি আনিসুর রহমান আনিসসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ জড়িত ছিল: ত্রাণমন্ত্রী দুলু