ইরানকে পারমাণবিক শক্তি হতে দেইনি ট্রাম্পের কড়া বার্তা
“আমাকে ছাড়া হয়তো আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না”— এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাকে কোনোভাবেই যুদ্ধে জড়াতে প্রভাবিত করেননি।ট্রাম্পের ভাষায়, “তিনি আমাকে ফাঁদে ফেলেছেন? না, সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নিয়েছি।”ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দিতে পারে না। তার মতে, ইরানের আরো পড়ুন , রাশিয়ার নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: ইউক্রেনে নিহত অন্তত ২৩পারমাণবিক সক্ষমতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, সরাসরি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে।ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারি না। প্রথম আঘাত সম্ভবত ইসরায়েলের ওপরই আসতো।”এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদেরও তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে নিয়ে যেসব সমালোচনা হচ্ছে, তা মূলত ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। তার ভাষায়, “তারা কিছুই বোঝে না।”প্রসঙ্গত, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। ওই চুক্তিটি হয়েছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়।তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে ট্রাম্পের একটি মন্তব্য। তিনি বলেন, “আমাকে ছাড়া এখন আর ইসরায়েল থাকতো না।”ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।