সরকার বিরোধী দলের কথা না শুনলে আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই ফয়সালা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জনদুর্ভোগ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি গ্যাস সংকট তৈরি পোশাকশিল্প এবং বিরোধী দলের চলমান লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগ সংসদে বিরোধী দল বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে নোটিশ দিলেও সেগুলো আলোচনায় আনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। জ্বালানি তেল সার বিদ্যুৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিশুধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল সংসদে কথা বলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এসব বিষয়ে সরকার গুরুত্ব না দেওয়ায় রাজপথে আন্দোলনে যেতে হয়েছে।জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন এর প্রভাব পরিবহন ব্যয় পণ্যের দাম উৎপাদন খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ছে। তাঁর দাবি জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ চলে যাচ্ছে।আরও পড়ুন, নৈরাজ্যের অভিযোগে রাজধানীতে ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিলচলমান ঢাকা-রংপুর লংমার্চ নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একক দলের নয় বরং জনগণের দাবি। তিনি বলেন চাইলে আরও বেশি গাড়ি নিয়ে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে তাঁদের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ শৃঙ্খলিত ও নিয়মতান্ত্রিক থাকবে বলেও জানান তিনি।লংমার্চের আগে ককটেল বিস্ফোরণসহ আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গে সরকারি দলের দিকে পাল্টা অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির। তিনি দাবি করেন বিরোধী দল নিজেদের কর্মসূচি বানচাল করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরেছেন।মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের সত্যকে সত্য এবং অসত্যকে অসত্য হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা জানতে চান এবং সমস্যা সমাধানে প্রস্তাবনা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।