বিচার বিভাগকে প্রশাসনিকভাবে আরও স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে গঠিত স্বতন্ত্র ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শক্রমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন ও বিচার বিভাগ। একইসঙ্গে সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মোট ১৫ কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৯ মে) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে গত বছরের শেষ দিকে গঠিত পৃথক সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো। জানা গেছে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা জোরদারের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দেয়নি। বরং নতুন সিদ্ধান্তে সচিবালয়টি বিলুপ্ত করা হলো। আরও পড়ুন, দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যুবাংলাদেশের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লেগেছে। ১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষের জেরে বিচারপতি মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারকের পক্ষে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।আরও পড়ুন, পূর্বাচলে প্লট আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ মামলায় বিচারপতি মানিকের জামিন নামঞ্জুরপরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস হিসেবে ঘোষণার নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। ওই রায়ে বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা জোরদারের কথা বলা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যায়।আরও পড়ুন, ঈদে হাসপাতাল বন্ধ নয়, ১৮ জরুরি নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার প্রশ্নে পৃথক সচিবালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। পরে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। সবশেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অধ্যাদেশ’ জারি হলেও নতুন সরকার সেটিকে আইনে পরিণত না করে সচিবালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।