দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

তিন ঝুঁকিতে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল এডিবি

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের ধীরগতিতে চাপে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো, বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভোগ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ।গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বোর্ড সভায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়। সংস্থাটির মূল্যায়নে বৈশ্বিক পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতিও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।এদিকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবি চলতি ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে সংস্থাটি। এডিবির মতে, দুর্বল বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির অন্যতম বাধা।এর মধ্যেই গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।আরও  পড়ুন, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক কমেছে, অধিকাংশ শেয়ারের দর পতনঅন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদহার দীর্ঘায়িত হলে ঋণের খরচ বেশি থাকবে। এতে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার বিনিয়োগ বাড়াতে সুদহার কমালে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে নীতিনির্ধারকদের সামনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইএমএফ আর্থিক খাতের সংস্কার ও দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সমস্যা দূর করা না গেলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন হতে পারে।অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, এর প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিদ্যুৎ ও উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যয়ও বাড়তে পারে।অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজের মতে, জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিদ্যমান শিল্পের সম্প্রসারণ কঠিন হবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। কারণ মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে বাজারের চাহিদাও দুর্বল হতে পারে।

তিন ঝুঁকিতে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল এডিবি