জিজ্ঞাসাবাদে বিস্ফোরক তথ্য দিচ্ছেন আটক দুই জেনারেল
সম্প্রতি গ্রেপ্তার দুই জেনারেল জেরার মুখে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিতে শুরু করেছেন। বেরিয়ে আসছে অজানা কাহিনী, অনেক নাম। এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব হিসেবে আলোচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুুরী এবং শেখ মামুন খালেদের বয়ানে উঠে আসছে এসব। তারা যাদের বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন, সেখানে রয়েছেন সামরিক, বেসামরিক ও সুশীল সমাজের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও । যাদের প্রত্যক্ষ্য বা পরোক্ষ মদদ ছিল এক/এগারোর ঘটনায়। ঢাকার দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে।জিজ্ঞাসাবাদে দুজনের কাছ থেকে অন্তত দেড় ডজন নাম বেরিয়ে এসেছে। যে তালিকায় তিন বাহিনীর তৎকালীন প্রধান ছাড়াও সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তারা তৎকালীন ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে সেনাসমর্থিত এক-এগারোর সরকার গঠনের নেপথ্যে ছিলেন।গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা গ্রেপ্তার সাবেক দুই কর্মকর্তা নিজেদের অপরাধ স্বীকার না করলেও সবকিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ এবং সাবেক ডিজিএফআইপ্রধান মেজর জেনারেল এ টি এম আমিনের ওপর।মইন উ আহমেদ নির্দেশ দিতেন এ টি এম আমিনকে। আমিন ওই সময় ডিজিএফআইতে কর্মরত কর্মকর্তাদের বাধ্য করেছিলেন তার আদেশ বাস্তবায়ন করতে এমনটাই দাবি করেছেন মামুন খালেদ।একাধিক সূত্র বলছে, এক-এগারোর সময় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দুটি ব্যুরোসহ কয়েকটি সংস্থায় কর্মরত ১৮ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে। তালিকা আরও বাড়তে পারে এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তাদের কয়েকজন অতি উৎসাহী হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অমানুষিক নির্যাতন করে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। যদিও সবকিছুর কলকাঠি নেড়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন এবং লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তবে বহুল আলোচিত চরিত্র জেনারেল (অব.) মইন উ আহমেদ অধিনায়কের ভূমিকায় থাকলেও তাকে সার্বিক সহায়তা করেছেন তৎকালীন বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) শাহ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এবং নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল (অব.) সরওয়ার জাহান নিজাম।এক-এগারোর পরবর্তী সময়ে সেনাপ্রধান হন জেনারেল আবদুল মুবীন। আরো পড়ুন , সচিবালয়ে আকস্মিক আট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী২০০৯ সালের ১৫ জুন থেকে ২০১২ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি । এর আগে তিনি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ছিলেন। তার সময়েই ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনা ঘটে। বাড়ি ভাঙার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের আস্থাভাজন তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের এক্সিকিউটিভ অফিসার নাজমুছ সাদাত সেলিম। ওই সময় সবকিছু তদারকির দায়িত্বে ছিলেন শেখ মামুন খালেদ এবং তৎকালীন ‘এমইও’ বা মিলিটারি এস্টেট অফিসার। চিকিৎসার জন্য জেনারেল (অব.) মুবীন বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আছেন বলে জানা গেছে।ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজন রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁরা অনেক কিছুই কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মইন উ আহমেদের ওপর সবকিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন। তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি।’২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে গঠিত হয় এক-এগারো সরকার। সেনাবাহিনীর একটি অংশের সমর্থনে ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হন ফখরুদ্দীন আহমদ। তবে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ। পরবর্তীতে তদন্তসহ সব ঝামেলা এড়াতেই আওয়ামী লীগের সহায়তায় নির্বাসিত জীবন বেছে নিয়েছেন এক-এগারোর অনেক কুশীলব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ড. ফখরুদ্দীন আহমদ নাগরিকত্ব নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদও আছেন একই দেশে। গ্রেপ্তার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অবশ্য দেশেই ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে সামরিক অ্যাটাশে হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার আরেক আলোচিত কর্মকর্তা ব্রি. জে. (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী। এক-এগারোর ঘটনাবলির তদন্তের প্রয়োজনে তাকে ডাকা হলেও আর দেশে ফেরেননি। এর পর থেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে।