গঙ্গাচড়ায় খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাইয়ুম খান সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ না করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ধান ক্রয় করছেন। খাদ্য গুদামের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট অন্যতম হলেন চাল ব্যবসায়ী (মিলার) ফজলু মিয়া, আইয়ুব আলী, জয়নাল আবেদীন, নজরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতি টনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছাঃ উম্মে কুলসুমা খাতুনের মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও পড়ুন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় করলিয়া প্রকল্পের চারা বিতরণ: ৪৫ গ্রামের বাসিন্দারা পাচ্ছেন সুফলবীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তার রহমান অভিযোগে আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার (৬ জুলাই) খাদ্য গুদামে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাইয়ুম খান তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অশোভন আচরণ করেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্যাদাহানিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।অপর কৃষক আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, "আমি নিজের উৎপাদিত ধান খাদ্যগত দেওয়ার জন্য এক মাস ধরে ঘুরতেছি, আমাকে বস্তা দেয়া হচ্ছে না। অথচ খাদ্য গুদামে নিয়মিত ব্যবসায়ীদেরকে অনেক বস্তা দেয়া হয়েছে। আমাকে এবং আমার মত চাষীদের কে বলা হচ্ছে, বস্তা আসলে দেয়া হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাধারণ ধান চাষীদেরকে এভাবে হয়রানি করতেছেন। আরও পড়ুন, বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রিডে আগুন বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রিডে আগুনঅভিযোগে আরো জানা গেছে, লটারি মাধ্যমে ধান চাষী নির্ধারণ করা হলেও এদের অধিকাংশেরই ধান না থাকায় তাদের পরিবর্তে খাদ্য গুদামের নিয়মিত ব্যবসায়ীরাই ধান কিনে তাদের নামে খাদ্য গুদামে চাষী হিসেবে ধান সরবরাহ করছেন। এতে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার সাধারণ ধান চাষীরা।"উপজেলার সাধারণ ধান চাষিরা বলেন, যেসব চাষি ধান দিতে পারছে না, তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে প্রকৃত চাষীদের তালিকা তৈরি করে ধান সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারের ধান সংগ্রহ অভিযানকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করার দাবী জানিয়েছেন। এসব বিষয়ে জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছাঃ উম্মে কুলছুমা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।অভিযোগ অস্বীকার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাইয়ুম খান বলেন, “খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধান নেওয়া হয় না। আমার জানামতে কৃষকরা তাদের ধান ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”