দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দেবহাটায় শামীম হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

দেবহাটায় শামীম হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

ধর্মীয় পরিচয়ে বৌদ্ধ:  ভক্তি ও বিশ্বাসের টানে বাড়ির আঙিনায় শারদীয় দুর্গাপূজা

ধর্মীয় পরিচয়ে বৌদ্ধ: ভক্তি ও বিশ্বাসের টানে বাড়ির আঙিনায় শারদীয় দুর্গাপূজা

১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী

১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী

স্বদেশ আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ / মাদ্রাসায় বার্ষিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

স্বদেশ আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ / মাদ্রাসায় বার্ষিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

মাদারগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রাণ তহবিল থেকে শাড়ি বিতরণ

মাদারগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রাণ তহবিল থেকে শাড়ি বিতরণ

টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তিতে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তিতে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মহেশপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশি অস্ত্র-গুলি

মহেশপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশি অস্ত্র-গুলি

টাঙ্গাইলে কালভার্টে বাঁশ ব্যবহার করায় কার্যসহকারী চাকরিচ্যুত,

টাঙ্গাইলে কালভার্টে বাঁশ ব্যবহার করায় কার্যসহকারী চাকরিচ্যুত,

দেবহাটায় শামীম হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

দেবহাটায় শামীম হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি
প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের নামও প্রকাশ করেছেন বলে আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নূসরত জাহানের খাসকামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেন। পরে রাত ৮টার দিকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী রুহুল আমিনের ছেলে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে তাঁর চাচাতো ভাই বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, শনিবার রাতে বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি শামীম হত্যা মামলায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আরোও পড়ুন,১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী

 জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জবানবন্দিতে ফজলুল হক দাবি করেন, শামীম নাস্তিক ছিলেন। তাঁকে হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না; ঘটনাটি ‘এক্সিডেন্টলি’ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আপাতত আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি কী, তা আল্লাহই ভালো জানেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নামও তিনি প্রকাশ করেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে জবানবন্দিতে দেওয়া বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং অন্যদের বিষয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আদালতের নথি থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফজলুল হক আমিনীর চাচাতো ভাই ও কালিগঞ্জের ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা বসির আহম্মেদ জানান, ফজলুলের জন্ম ফরিদপুর গ্রামে। প্রায় ২৮ বছর আগে তাঁর বাবা কারী রুহুল আমিন পরিবারসহ দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ফজলুল ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বসির আহম্মেদের ভাষ্য অনুযায়ী, শামীম হত্যার পর ফজলুল তাঁর বাড়িতে চলে আসেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে স্ত্রী ও সন্তানের জীবন রক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে আত্মসমর্পণের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন বসির। তবে তাঁদের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসআরবি সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করেন। ফজলুলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মহানবীকে কটূক্তি করেছেন এমন অভিযোগসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একদল লোক শামীমের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাঁকে মারধর করে। পরে তাঁকে কুলিয়ার ডা. এমএ সবুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

আরোও পড়ুন,ধর্মীয় পরিচয়ে বৌদ্ধ: ভক্তি ও বিশ্বাসের টানে বাড়ির আঙিনায় শারদীয় দুর্গাপূজা

 পরদিন ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় একই ব্যক্তির নেতৃত্বে আবারও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতেই সেখানকার হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে চিকিৎসক, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে শামীমের ওপর তৃতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনী, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুল গাজীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার হোসেন খান এবং ১৬ অক্টোবর সকালে নিজ বাড়ি নাজিরের ঘের এলাকা থেকে আসাদুল্লাহ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। শামীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন তদন্তে হত্যাকাণ্ডে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, সহিংসতার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং হাসপাতালে হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় উদ্‌ঘাটন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিষয় : হত্যা আদালত দেবহাটা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


দেবহাটায় শামীম হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের নামও প্রকাশ করেছেন বলে আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নূসরত জাহানের খাসকামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেন। পরে রাত ৮টার দিকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী রুহুল আমিনের ছেলে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে তাঁর চাচাতো ভাই বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, শনিবার রাতে বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি শামীম হত্যা মামলায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আরোও পড়ুন,১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী

 জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জবানবন্দিতে ফজলুল হক দাবি করেন, শামীম নাস্তিক ছিলেন। তাঁকে হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না; ঘটনাটি ‘এক্সিডেন্টলি’ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আপাতত আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি কী, তা আল্লাহই ভালো জানেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নামও তিনি প্রকাশ করেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে জবানবন্দিতে দেওয়া বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং অন্যদের বিষয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আদালতের নথি থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফজলুল হক আমিনীর চাচাতো ভাই ও কালিগঞ্জের ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা বসির আহম্মেদ জানান, ফজলুলের জন্ম ফরিদপুর গ্রামে। প্রায় ২৮ বছর আগে তাঁর বাবা কারী রুহুল আমিন পরিবারসহ দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ফজলুল ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বসির আহম্মেদের ভাষ্য অনুযায়ী, শামীম হত্যার পর ফজলুল তাঁর বাড়িতে চলে আসেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে স্ত্রী ও সন্তানের জীবন রক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে আত্মসমর্পণের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন বসির। তবে তাঁদের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসআরবি সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করেন। ফজলুলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মহানবীকে কটূক্তি করেছেন এমন অভিযোগসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একদল লোক শামীমের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাঁকে মারধর করে। পরে তাঁকে কুলিয়ার ডা. এমএ সবুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

আরোও পড়ুন,ধর্মীয় পরিচয়ে বৌদ্ধ: ভক্তি ও বিশ্বাসের টানে বাড়ির আঙিনায় শারদীয় দুর্গাপূজা

 পরদিন ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় একই ব্যক্তির নেতৃত্বে আবারও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতেই সেখানকার হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে চিকিৎসক, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে শামীমের ওপর তৃতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনী, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুল গাজীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার হোসেন খান এবং ১৬ অক্টোবর সকালে নিজ বাড়ি নাজিরের ঘের এলাকা থেকে আসাদুল্লাহ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। শামীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন তদন্তে হত্যাকাণ্ডে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, সহিংসতার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং হাসপাতালে হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় উদ্‌ঘাটন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দেবহাটায় শামীম হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি
0:00 0:00
1.0x