রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না। বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম ব্যর্থ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা নগর পরিবহন। অন্যদিকে, ফিটনেসবিহীন বাস, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানো-নামানো, ভাড়া নৈরাজ্য ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। প্রতিদিন যানজট, দুর্ঘটনা ও গণপরিবহনের অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সারা দেশে পাঁচ লাখের বেশি ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল করছে। ঢাকার সড়কে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাস-মিনিবাস যাত্রী পরিবহন করলেও এর বাইরে কত ফিটনেসবিহীন বাস চলছে, সেই পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) কাছে।২০১৫ সালে তৎকালীন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক রুটভিত্তিক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে চালু হয় ঢাকা নগর পরিবহন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রাজধানীর বাসব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা সফল হয়নি।
আর ও পড়ুন, মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগাতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে
এখন বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ডিটিসিএ।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর মতে, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন কার্যকর সরকারি উদ্যোগ, উন্নত যাত্রীসেবা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ। তাঁর ভাষ্য, মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়াচ্ছে।বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক মনে করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া আদায়ে নতুন করে নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সিএনজিচালিত বাসেও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি যাত্রী তুলতে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার ঘটনা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা সমাধানে ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা, চালকদের প্রশিক্ষণ, স্থায়ী বেতনব্যবস্থা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং আধুনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। সমন্বিত পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয় : গণপরিবহন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নৈরাজ্য

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না। বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম ব্যর্থ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা নগর পরিবহন। অন্যদিকে, ফিটনেসবিহীন বাস, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানো-নামানো, ভাড়া নৈরাজ্য ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। প্রতিদিন যানজট, দুর্ঘটনা ও গণপরিবহনের অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সারা দেশে পাঁচ লাখের বেশি ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল করছে। ঢাকার সড়কে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাস-মিনিবাস যাত্রী পরিবহন করলেও এর বাইরে কত ফিটনেসবিহীন বাস চলছে, সেই পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) কাছে।২০১৫ সালে তৎকালীন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক রুটভিত্তিক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে চালু হয় ঢাকা নগর পরিবহন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রাজধানীর বাসব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা সফল হয়নি।
আর ও পড়ুন, মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগাতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে
এখন বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ডিটিসিএ।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর মতে, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন কার্যকর সরকারি উদ্যোগ, উন্নত যাত্রীসেবা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ। তাঁর ভাষ্য, মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়াচ্ছে।বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক মনে করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া আদায়ে নতুন করে নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সিএনজিচালিত বাসেও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি যাত্রী তুলতে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার ঘটনা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা সমাধানে ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা, চালকদের প্রশিক্ষণ, স্থায়ী বেতনব্যবস্থা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং আধুনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। সমন্বিত পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন