সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালু, স্পাইন সার্জনদের জন্য স্বতন্ত্র পদ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। তিনি বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালে মেরুদণ্ডের উন্নত চিকিৎসা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। তাই সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালেই এ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে সাতক্ষীরার বাইপাস এলাকায় স্পেশালাইজড হসপিটালের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্পাইন হেলথ ফর লাইফ’—অর্থাৎ আজীবন মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্য। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রাসেল, কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পী কুমার দাশ, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ-দৌলা সাগর, ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রওশন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁসহ অন্যরা।
আরও পড়ুন, তালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ বলেন, মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা জরুরি। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে হচ্ছে। দেশে মানসম্মত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো গেলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। এ জন্য সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসক আরও জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পাইন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরাতেও এ ধরনের সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেরুদণ্ডের ব্যথাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. পলাশ বলেন, অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে সেবন করেন। এ ধরনের ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কিডনি ও যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ব্যথার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, মেরুদণ্ডের ব্যথার পেছনে ডিস্কের সমস্যা ছাড়াও যক্ষ্মা, ক্যানসার, হাড়ের ক্ষয়, কাইফোসিস, স্কলিওসিস ও অস্টিওপোরোটিক ফ্র্যাকচারের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এসব সমস্যার সঠিক চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটাচলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড পরিহার এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন। র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্য রক্ষা, ব্যথা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিষয় : মেরুদণ্ডের চিকিৎসা স্পাইন ইউনিট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালু, স্পাইন সার্জনদের জন্য স্বতন্ত্র পদ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। তিনি বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালে মেরুদণ্ডের উন্নত চিকিৎসা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। তাই সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালেই এ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে সাতক্ষীরার বাইপাস এলাকায় স্পেশালাইজড হসপিটালের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্পাইন হেলথ ফর লাইফ’—অর্থাৎ আজীবন মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্য। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রাসেল, কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পী কুমার দাশ, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ-দৌলা সাগর, ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রওশন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁসহ অন্যরা।
আরও পড়ুন, তালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ বলেন, মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা জরুরি। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে হচ্ছে। দেশে মানসম্মত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো গেলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। এ জন্য সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসক আরও জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পাইন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরাতেও এ ধরনের সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেরুদণ্ডের ব্যথাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. পলাশ বলেন, অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে সেবন করেন। এ ধরনের ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কিডনি ও যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ব্যথার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, মেরুদণ্ডের ব্যথার পেছনে ডিস্কের সমস্যা ছাড়াও যক্ষ্মা, ক্যানসার, হাড়ের ক্ষয়, কাইফোসিস, স্কলিওসিস ও অস্টিওপোরোটিক ফ্র্যাকচারের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এসব সমস্যার সঠিক চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটাচলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড পরিহার এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন। র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্য রক্ষা, ব্যথা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আপনার মতামত লিখুন