দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

টুঙ্গিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রস্তুতি, মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু

টুঙ্গিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রস্তুতি, মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু

খাবারের প্রলোভনে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ভারতে পাচারের আগেই উদ্ধার

খাবারের প্রলোভনে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ভারতে পাচারের আগেই উদ্ধার

গংগাচড়ায় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি রায়হান সিরাজী

গংগাচড়ায় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি রায়হান সিরাজী

আমতলী ইউনিয়নে কাকন মৃধাকে ঘিরে নির্বাচনী আলোচনা

আমতলী ইউনিয়নে কাকন মৃধাকে ঘিরে নির্বাচনী আলোচনা

মেধা, সাফল্য ও স্বপ্নের উদ্‌যাপন: সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা

মেধা, সাফল্য ও স্বপ্নের উদ্‌যাপন: সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা

মুক্তিযোদ্ধা হকার্স মার্কেট ঘিরে পথচারীদের দুর্ভোগ, সড়কেও দখলের অভিযোগ; চাঁদা আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি

মুক্তিযোদ্ধা হকার্স মার্কেট ঘিরে পথচারীদের দুর্ভোগ, সড়কেও দখলের অভিযোগ; চাঁদা আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাসে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাসে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

গাজীপুরে খাদ্য পরিদর্শক সোহেল আহামেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

গাজীপুরে খাদ্য পরিদর্শক সোহেল আহামেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এখন নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এখন নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু।
দুর্নীতি এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক কারবারের পৃষ্ঠপোষকতা, থানায় ঘুষের সিন্ডিকেট পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এতে চুনারুঘাট জুড়ে চরম জনরোষ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​১. সাংবাদিক নির্যাতন ও ঘটনার বিবরণ ​গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নার্স ও দায়িত্বরত কর্মীদের অবহেলার কারণে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুইজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনদের আর্তনাদের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে তুলে ধরেন। ​লাইভ চলাকালেই একটি রাজনৈতিক চক্র সাংবাদিককে ভিডিওটি মুছে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক সত্য প্রকাশে অবিচল থাকলে ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিজে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক মাসুদ আলমের ওপর চড়াও হন। অভিযোগ রয়েছে, ওসি সরাসরি সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালান, হাতে মোচড় দিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অপেশাদার আচরণ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীকে দিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো এবং অনৈতিক সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির পক্ষে মনগড়া প্রচারণা চালানোর জন্য একটি চক্রকে নিয়োজিত করারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ​২. মাদক ও চোরাচালানের অভয়ারণ্য: ‘মাসোহারা’ সিন্ডিকেট

আরও পড়ুন,আর্থিক সংকটে বন্ধ হবে না শ্রমিকের সন্তানের পড়াশোনা, উচ্চশিক্ষায়ও সহায়তা দেবে সরকার

​স্থানীয় অধিবাসী ও ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, চুনারুঘাট সীমান্ত এলাকা এখন মাদক ও চোরাচালানের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। থানার সেকেন্ড অফিসার সজল দাসের মাধ্যমে চিমটিবিল সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও ভারতীয় গরু চোরাচালান করা হচ্ছে।

​অভিযোগ উঠেছে, এসব অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত মাসোহারা ও বখরা সরাসরি ওসির কাছে পৌঁছায়। প্রতিদিন রাত ১০টার পর ওসির ব্যক্তিগত কক্ষে দরজা বন্ধ করে এই অবৈধ অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা চলে। পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে দু-একটি ছোটখাটো লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও পর্দার আড়ালে মূল মাদক কারবারিদের পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

​৩. সেবা প্রার্থীর ভোগান্তি: জিডি ও ক্লিয়ারেন্সে অর্থ আদায়  ​চুনারুঘাট থানায় সাধারণ মানুষের আইনি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জিডি (সাধারণ ডায়েরি) ও অভিযোগপত্র লেখার নামে কম্পিউটার অপারেটর আকবরের মাধ্যমে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দুর্নীতিআদায় করা হচ্ছে। ​এছাড়া বিদেশগামী তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আবশ্যক 'পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট' দেওয়ার নামে গড়ে উঠেছে বিশালাকার ঘুষ বাণিজ্য। অপারেটর আকবরের মাধ্যমে প্রতি মাসে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বাবদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

​৪. নিরপরাধ মানুষদের হয়রানি ও ইয়াবা নাটক ​থানার মূল সিন্ডিকেটের কাজ হলো বিভিন্ন মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামিদের বাঁচানো এবং নিরপরাধ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা।​অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বা অন্যান্য নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার (উইথড্র) করা হলেও, এসব অপকর্মের প্রধান নির্দেষ্টা হওয়া সত্ত্বেও ওসি সাইফুল ইসলাম নিজ পদে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন,চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করেছে সদরঘাট থানা পুলিশ

​৫. বিতর্কমুক্ত নয় অতীত: পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ​ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চুনারুঘাটে আসার আগেও একাধিক বিতর্কিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে: ​বাহুবল মডেল থানা: পূর্বের কর্মস্থল বাহুবল মডেল থানায় দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সে সময় প্রবল জনরোষ ও বিক্ষোভের মুখে তাঁকে ওই থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ​হাতিরঝিল থানা, ঢাকা (২০২৪): ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার হাতিরঝিল থানায় দায়িত্বরত অবস্থায় দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় অপরাধীদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও কর্তব্যে চরম অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে দ্রুত ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ক্লোজড করা হয়। এত বড় অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁকে চুনারুঘাটের মতো সীমান্তঘেঁষা ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়ন করা হলো, তা নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে।

​৬. জনদাবি ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ​থানার ভেতরের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, মূল সমন্বয়ক ওসির বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো প্রতিবাদী সংবাদকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষকে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। ​বর্তমানে চুনারুঘাটের সুশীল সমাজ, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বরখাস্ত, নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে চুনারুঘাট থানাকে দুর্নীতিমুক্ত করে সাধারণ জনগণের জন্য একটি নিরাপদ ও জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিষয় : দুর্নীতি হবিগঞ্জ কেন্দ্রবিন্দু

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এখন নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু।

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক কারবারের পৃষ্ঠপোষকতা, থানায় ঘুষের সিন্ডিকেট পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এতে চুনারুঘাট জুড়ে চরম জনরোষ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​১. সাংবাদিক নির্যাতন ও ঘটনার বিবরণ ​গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নার্স ও দায়িত্বরত কর্মীদের অবহেলার কারণে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুইজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনদের আর্তনাদের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে তুলে ধরেন। ​লাইভ চলাকালেই একটি রাজনৈতিক চক্র সাংবাদিককে ভিডিওটি মুছে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক সত্য প্রকাশে অবিচল থাকলে ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিজে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক মাসুদ আলমের ওপর চড়াও হন। অভিযোগ রয়েছে, ওসি সরাসরি সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালান, হাতে মোচড় দিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অপেশাদার আচরণ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীকে দিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো এবং অনৈতিক সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির পক্ষে মনগড়া প্রচারণা চালানোর জন্য একটি চক্রকে নিয়োজিত করারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ​২. মাদক ও চোরাচালানের অভয়ারণ্য: ‘মাসোহারা’ সিন্ডিকেট

আরও পড়ুন,আর্থিক সংকটে বন্ধ হবে না শ্রমিকের সন্তানের পড়াশোনা, উচ্চশিক্ষায়ও সহায়তা দেবে সরকার

​স্থানীয় অধিবাসী ও ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, চুনারুঘাট সীমান্ত এলাকা এখন মাদক ও চোরাচালানের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। থানার সেকেন্ড অফিসার সজল দাসের মাধ্যমে চিমটিবিল সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও ভারতীয় গরু চোরাচালান করা হচ্ছে।

​অভিযোগ উঠেছে, এসব অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত মাসোহারা ও বখরা সরাসরি ওসির কাছে পৌঁছায়। প্রতিদিন রাত ১০টার পর ওসির ব্যক্তিগত কক্ষে দরজা বন্ধ করে এই অবৈধ অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা চলে। পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে দু-একটি ছোটখাটো লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও পর্দার আড়ালে মূল মাদক কারবারিদের পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

​৩. সেবা প্রার্থীর ভোগান্তি: জিডি ও ক্লিয়ারেন্সে অর্থ আদায়  ​চুনারুঘাট থানায় সাধারণ মানুষের আইনি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জিডি (সাধারণ ডায়েরি) ও অভিযোগপত্র লেখার নামে কম্পিউটার অপারেটর আকবরের মাধ্যমে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দুর্নীতিআদায় করা হচ্ছে। ​এছাড়া বিদেশগামী তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আবশ্যক 'পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট' দেওয়ার নামে গড়ে উঠেছে বিশালাকার ঘুষ বাণিজ্য। অপারেটর আকবরের মাধ্যমে প্রতি মাসে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বাবদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

​৪. নিরপরাধ মানুষদের হয়রানি ও ইয়াবা নাটক ​থানার মূল সিন্ডিকেটের কাজ হলো বিভিন্ন মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামিদের বাঁচানো এবং নিরপরাধ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা।​অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বা অন্যান্য নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার (উইথড্র) করা হলেও, এসব অপকর্মের প্রধান নির্দেষ্টা হওয়া সত্ত্বেও ওসি সাইফুল ইসলাম নিজ পদে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন,চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করেছে সদরঘাট থানা পুলিশ

​৫. বিতর্কমুক্ত নয় অতীত: পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ​ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চুনারুঘাটে আসার আগেও একাধিক বিতর্কিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে: ​বাহুবল মডেল থানা: পূর্বের কর্মস্থল বাহুবল মডেল থানায় দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সে সময় প্রবল জনরোষ ও বিক্ষোভের মুখে তাঁকে ওই থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ​হাতিরঝিল থানা, ঢাকা (২০২৪): ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার হাতিরঝিল থানায় দায়িত্বরত অবস্থায় দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় অপরাধীদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও কর্তব্যে চরম অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে দ্রুত ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ক্লোজড করা হয়। এত বড় অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁকে চুনারুঘাটের মতো সীমান্তঘেঁষা ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়ন করা হলো, তা নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে।

​৬. জনদাবি ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ​থানার ভেতরের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, মূল সমন্বয়ক ওসির বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো প্রতিবাদী সংবাদকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষকে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। ​বর্তমানে চুনারুঘাটের সুশীল সমাজ, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বরখাস্ত, নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে চুনারুঘাট থানাকে দুর্নীতিমুক্ত করে সাধারণ জনগণের জন্য একটি নিরাপদ ও জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এখন নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু।
0:00 0:00
1.0x