দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

দেশের ইতিহাসে রেকর্ড লোডশেডিং, ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে অনেক এলাকা

দেশের ইতিহাসে রেকর্ড লোডশেডিং, ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে অনেক এলাকা
দেশের ইতিহাসে রেকর্ড লোডশেডিং

দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতিতে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের নতুন রেকর্ড হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় দিন-রাতে মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৯ আগস্ট) রাত ১টায় দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগে একই দিন বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেও সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বলছে, 

কয়লা ও গ্যাস সংকটের কারণে স্বাভাবিক সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।পিজিসিবির হিসাব অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় মাত্র ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় সরবরাহ বেড়ে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট হলেও তখনও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৬৭ মেগাওয়াট।

কমেছে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ

পিডিবি জানিয়েছে, আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ অর্ধেকে নেমে এসেছে। সাধারণত পিক আওয়ারে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও রোববার বিকেল ৫টায় সরবরাহ করা হয় মাত্র ৮১৫ মেগাওয়াট।

পিডিবির কাছে আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় তাদের কয়লার মজুত কমে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। তবে আদানির দেওয়া তথ্য সরেজমিনে যাচাই করতে পারেনি পিডিবি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করা ছাড়া বিকল্প নেই।

বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন কম

আদানি ছাড়াও কয়লা সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়া, বরিশাল ইলেকট্রিক কোম্পানি, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপাল, এসএস পাওয়ার ও আরএনপিএলের কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে রাতে সেটি চালু করা হয় বলে জানা গেছে। কেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট হলেও ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭১০ মেগাওয়াট।

গ্যাস সংকটেও কমেছে উৎপাদন

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হতে শুরু করে। টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হলেও গ্যাস সরবরাহ এখনও আগের অবস্থায় ফেরেনি।

জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে কমে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে নেমে এসেছে। পাশাপাশি আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ কমেছে। ফার্নেসওয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকেও উৎপাদন কমেছে।

পাওয়ার গ্রিডের তথ্য বলছে, রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কম ছিল।বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি, জ্বালানি সংকট এবং একাধিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি ও দেশের বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি। ফলে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

বিষয় : নতুন রেকর্ড লোডশেডিং বিদ্যুতের চাহিদা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


দেশের ইতিহাসে রেকর্ড লোডশেডিং, ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে অনেক এলাকা

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতিতে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের নতুন রেকর্ড হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় দিন-রাতে মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৯ আগস্ট) রাত ১টায় দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগে একই দিন বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেও সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বলছে, 

কয়লা ও গ্যাস সংকটের কারণে স্বাভাবিক সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।পিজিসিবির হিসাব অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় মাত্র ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় সরবরাহ বেড়ে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট হলেও তখনও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৬৭ মেগাওয়াট।

কমেছে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ

পিডিবি জানিয়েছে, আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ অর্ধেকে নেমে এসেছে। সাধারণত পিক আওয়ারে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও রোববার বিকেল ৫টায় সরবরাহ করা হয় মাত্র ৮১৫ মেগাওয়াট।

পিডিবির কাছে আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় তাদের কয়লার মজুত কমে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। তবে আদানির দেওয়া তথ্য সরেজমিনে যাচাই করতে পারেনি পিডিবি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করা ছাড়া বিকল্প নেই।

বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন কম

আদানি ছাড়াও কয়লা সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়া, বরিশাল ইলেকট্রিক কোম্পানি, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপাল, এসএস পাওয়ার ও আরএনপিএলের কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে রাতে সেটি চালু করা হয় বলে জানা গেছে। কেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট হলেও ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭১০ মেগাওয়াট।

গ্যাস সংকটেও কমেছে উৎপাদন

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হতে শুরু করে। টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হলেও গ্যাস সরবরাহ এখনও আগের অবস্থায় ফেরেনি।

জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে কমে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে নেমে এসেছে। পাশাপাশি আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ কমেছে। ফার্নেসওয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকেও উৎপাদন কমেছে।

পাওয়ার গ্রিডের তথ্য বলছে, রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কম ছিল।বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি, জ্বালানি সংকট এবং একাধিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি ও দেশের বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি। ফলে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত