চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন এবং বিশ্বসেরা গবেষণা সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশ সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন এক সাফল্যের ইতিহাস লিখছেন।এই ধারাবাহিক অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বৃত্তি ও গবেষণায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৭৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে চিটাগাং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি (সিইউআরএইচএস) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিস।মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ট্রপিক্যাল ডিজিজ রিসার্চ প্রোগ্রামের কনসালট্যান্ট সায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ড. এমরান বিন ইউনুস।
আরও পড়ুন. সিরাজগঞ্জ পৌরকর্মচারী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত পরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত
আয়োজকদের তথ্যমতে, চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন কমনওয়েলথ স্কলারশিপপ্রাপ্ত, তিনজন ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপপ্রাপ্ত, চারজন জাপানের মনবুশো স্কলারশিপপ্রাপ্ত এবং তিনজন অস্ট্রেলিয়া সরকারের মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপপ্রাপ্ত।সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সুযোগ পেয়েছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষাই নয়, গবেষণার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষকের গবেষণাপত্র বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট, নেচার কমিউনিকেশনস এবং পিএনএএস-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।উচ্চ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরসম্পন্ন গবেষণা এবং সর্বাধিক সাইটেশন অর্জনের জন্য অধ্যাপক ড. খাদিজা মিতু, অধ্যাপক ড. ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সুমন গাঙ্গুলি, অধ্যাপক ড. কমল দে, ড. অলি আহমেদ, ড. শহিদুল্লাহ কায়সার,
আরও পড়ুন,গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা, মহাসড়ক অবরোধে দীর্ঘ যানজট
অধ্যাপক ড. মাসুদ কামাল এবং ড. হুমায়ুন কবিরকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।এছাড়া বিশ্বব্যাংকের হায়ার এডুকেশন অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT) প্রকল্পের অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পুরস্কারজয়ী এবং উচ্চপ্রভাবসম্পন্ন আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশকারী শিক্ষক-গবেষকদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান ও বৈশ্বিক সক্ষমতার প্রতিফলন। গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোরও আহ্বান জানান তিনি।বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অংশগ্রহণ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মের গবেষকদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।অনুষ্ঠানে সিইউআরএইচএসের মডারেটর অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জনের পরিসংখ্যান এবং গবেষণায় বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন অধ্যাপক ড. অলক পাল, অধ্যাপক ড. কাজি তানভীর আহাম্মেদ এবং অধ্যাপক ড. শাহনেওয়াজ চৌধুরী।বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বৃত্তি, বিশ্বমানের গবেষণা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক যোগাযোগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গবেষণানির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন এবং বিশ্বসেরা গবেষণা সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশ সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন এক সাফল্যের ইতিহাস লিখছেন।এই ধারাবাহিক অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বৃত্তি ও গবেষণায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ৭৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে চিটাগাং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি (সিইউআরএইচএস) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিস।মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ট্রপিক্যাল ডিজিজ রিসার্চ প্রোগ্রামের কনসালট্যান্ট সায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ড. এমরান বিন ইউনুস।
আরও পড়ুন. সিরাজগঞ্জ পৌরকর্মচারী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত পরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত
আয়োজকদের তথ্যমতে, চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন কমনওয়েলথ স্কলারশিপপ্রাপ্ত, তিনজন ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপপ্রাপ্ত, চারজন জাপানের মনবুশো স্কলারশিপপ্রাপ্ত এবং তিনজন অস্ট্রেলিয়া সরকারের মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপপ্রাপ্ত।সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সুযোগ পেয়েছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষাই নয়, গবেষণার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষকের গবেষণাপত্র বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট, নেচার কমিউনিকেশনস এবং পিএনএএস-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।উচ্চ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরসম্পন্ন গবেষণা এবং সর্বাধিক সাইটেশন অর্জনের জন্য অধ্যাপক ড. খাদিজা মিতু, অধ্যাপক ড. ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সুমন গাঙ্গুলি, অধ্যাপক ড. কমল দে, ড. অলি আহমেদ, ড. শহিদুল্লাহ কায়সার,
আরও পড়ুন,গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা, মহাসড়ক অবরোধে দীর্ঘ যানজট
অধ্যাপক ড. মাসুদ কামাল এবং ড. হুমায়ুন কবিরকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।এছাড়া বিশ্বব্যাংকের হায়ার এডুকেশন অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT) প্রকল্পের অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পুরস্কারজয়ী এবং উচ্চপ্রভাবসম্পন্ন আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশকারী শিক্ষক-গবেষকদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান ও বৈশ্বিক সক্ষমতার প্রতিফলন। গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোরও আহ্বান জানান তিনি।বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অংশগ্রহণ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মের গবেষকদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।অনুষ্ঠানে সিইউআরএইচএসের মডারেটর অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জনের পরিসংখ্যান এবং গবেষণায় বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন অধ্যাপক ড. অলক পাল, অধ্যাপক ড. কাজি তানভীর আহাম্মেদ এবং অধ্যাপক ড. শাহনেওয়াজ চৌধুরী।বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বৃত্তি, বিশ্বমানের গবেষণা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক যোগাযোগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গবেষণানির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।

আপনার মতামত লিখুন