দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

গরমে নাজেহাল সিলেট, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

গরমে নাজেহাল সিলেট, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তি

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটের বাসিন্দারা। গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে দিনে-রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা, যাদের পড়াশোনা ও প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার এবং রাতের বেলাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুমনা আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ ও ফ্যান ছাড়া প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার সময় এমন পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।অভিভাবক আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। তার মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হতে পারে।নগরের দরগামহল্লার বাসিন্দা মুফতি কামরুজ্জামান কামু অভিযোগ করেন, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা এমনকি গভীর রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।

আরও  পড়ুন, মনিরামপুরে শেষ হয়নি দুই বছরে সেতুর কাজ চলাচলে চরম ভোগান্তি

অন্যদিকে, সফটওয়্যার ডেভেলপার আনজুম লুবাবা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অনলাইনে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা তানজিল আহমদও। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।এ বিষয়ে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, সিলেটে প্রতিদিন ২৩০ থেকে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে গড়ে মাত্র ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণেই নির্ধারিত ও অনির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব নয়। তাই কবে নাগাদ লোডশেডিং কমবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।বিদ্যুৎ সংকটের এ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিলেটবাসী।

বিষয় : লোডশেডিং চরম ভোগান্তি গরমে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


গরমে নাজেহাল সিলেট, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটের বাসিন্দারা। গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে দিনে-রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা, যাদের পড়াশোনা ও প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার এবং রাতের বেলাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুমনা আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ ও ফ্যান ছাড়া প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার সময় এমন পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।অভিভাবক আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। তার মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হতে পারে।নগরের দরগামহল্লার বাসিন্দা মুফতি কামরুজ্জামান কামু অভিযোগ করেন, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা এমনকি গভীর রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।

আরও  পড়ুন, মনিরামপুরে শেষ হয়নি দুই বছরে সেতুর কাজ চলাচলে চরম ভোগান্তি

অন্যদিকে, সফটওয়্যার ডেভেলপার আনজুম লুবাবা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অনলাইনে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা তানজিল আহমদও। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।এ বিষয়ে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, সিলেটে প্রতিদিন ২৩০ থেকে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে গড়ে মাত্র ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণেই নির্ধারিত ও অনির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব নয়। তাই কবে নাগাদ লোডশেডিং কমবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।বিদ্যুৎ সংকটের এ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিলেটবাসী।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত