ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত (২৮) নামের এক আসামির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্ক্যান রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গুরুতর ব্রেইন স্ট্রোক ও মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (Cerebral Hemorrhage)। নিহতের শরীরে কোনো ধরনের আঘাত বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। নিহত প্রান্ত স্থানীয় মৃত ইস্কেন্দার হায়দারের ছেলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৬ সাল থেকেই মধুখালী থানায় মাদক মামলা (জিআর ৭২/১৬) রয়েছে।জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান,"আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। আসামির অসুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।"
আরও পড়ুন , ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ, বৃদ্ধ মায়ের সংবাদ সম্মেলন
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে প্রান্তর সিটিস্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে দেখা যায়, তিনি গুরুতর ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় মাদক সেবন করতে না পারার কারণেও তিনি স্ট্রোকের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ একটি স্ট্রোকজনিত মৃত্যু এবং শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।এই বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুল গণমাধ্যমকে বলেন,"আমরা জেনেছি গ্রেফতারকৃত আসামির স্ট্রোক/হার্ট অ্যাটাক জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের মৃত্যু যেকোনো স্থানেই ঘটতে পারত। তবে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।"ফরিদপুর জেলার পুলিশ এসপি মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ হেফাজতে যেকোনো মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। প্রকৃত ঘটনা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তাধীন এই বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব না ছড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলে যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিষয় : চিকিৎসাধীন ডিবি হেফাজতে ব্রেইন স্ট্রোক

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত (২৮) নামের এক আসামির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্ক্যান রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গুরুতর ব্রেইন স্ট্রোক ও মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (Cerebral Hemorrhage)। নিহতের শরীরে কোনো ধরনের আঘাত বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। নিহত প্রান্ত স্থানীয় মৃত ইস্কেন্দার হায়দারের ছেলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৬ সাল থেকেই মধুখালী থানায় মাদক মামলা (জিআর ৭২/১৬) রয়েছে।জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান,"আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। আসামির অসুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।"
আরও পড়ুন , ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ, বৃদ্ধ মায়ের সংবাদ সম্মেলন
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে প্রান্তর সিটিস্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে দেখা যায়, তিনি গুরুতর ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় মাদক সেবন করতে না পারার কারণেও তিনি স্ট্রোকের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ একটি স্ট্রোকজনিত মৃত্যু এবং শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।এই বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুল গণমাধ্যমকে বলেন,"আমরা জেনেছি গ্রেফতারকৃত আসামির স্ট্রোক/হার্ট অ্যাটাক জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের মৃত্যু যেকোনো স্থানেই ঘটতে পারত। তবে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।"ফরিদপুর জেলার পুলিশ এসপি মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ হেফাজতে যেকোনো মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। প্রকৃত ঘটনা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তাধীন এই বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব না ছড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলে যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন