দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

দাম না পেয়ে ক্ষোভ ও অভিমানে নিজের উৎপাদিত পেঁয়াজ পানিতে ফেললেন রাজবাড়ীর কৃষক

দাম না পেয়ে ক্ষোভ ও অভিমানে নিজের উৎপাদিত পেঁয়াজ পানিতে ফেললেন রাজবাড়ীর কৃষক
দাম না পেয়ে ক্ষোভ ও অভিমানে নিজের উৎপাদিত

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভ আর হতাশায় নিজের কষ্টের ফসল পানিতে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কৃষক। এ ঘটনা শুধু একজন কৃষকের ক্ষোভ নয়, বরং জেলার হাজারো পেঁয়াজ চাষির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আর্তনাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসেন স্থানীয় কৃষকরা। ভোর থেকে মাঠের ফসল নিয়ে বাজারে ছুটে এলেও দিনের শেষে অনেকের কপালে জোটেনি ন্যায্য দাম। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের বিশাল ব্যবধান দেখে অনেকেই পেঁয়াজ বিক্রি না করে বাড়ি ফিরে যান।এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষক আলী আজগর নিজের ৬ বস্তা পেঁয়াজ বাজার সংলগ্ন পানিতে ফেলে দেন। বছরের পর বছর ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদন করা ফসল এভাবে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার দৃশ্য উপস্থিত মানুষকে নাড়া দেয়। কেউ কেউ সেই মুহূর্ত ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

আরও  পড়ুন, বিশেষ অভিযানে ৭ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ মিটিয়ে এখন প্রতি মণ পেঁয়াজ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করা মানে নিশ্চিত লোকসান। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন খরচও উঠে আসে না। ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।একাধিক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “মাঠে ফসল ফলাতে আমাদের যে কষ্ট, তার মূল্য কেউ দেয় না। পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।”কৃষকের চোখের জল আর পানিতে ভেসে যাওয়া পেঁয়াজ যেন আজ একটাই প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলানো মানুষ কি কখনো তার ন্যায্য মূল্য পাবে?পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনা করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

বিষয় : কৃষক কষ্টের ফসল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


দাম না পেয়ে ক্ষোভ ও অভিমানে নিজের উৎপাদিত পেঁয়াজ পানিতে ফেললেন রাজবাড়ীর কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভ আর হতাশায় নিজের কষ্টের ফসল পানিতে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কৃষক। এ ঘটনা শুধু একজন কৃষকের ক্ষোভ নয়, বরং জেলার হাজারো পেঁয়াজ চাষির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আর্তনাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসেন স্থানীয় কৃষকরা। ভোর থেকে মাঠের ফসল নিয়ে বাজারে ছুটে এলেও দিনের শেষে অনেকের কপালে জোটেনি ন্যায্য দাম। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের বিশাল ব্যবধান দেখে অনেকেই পেঁয়াজ বিক্রি না করে বাড়ি ফিরে যান।এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষক আলী আজগর নিজের ৬ বস্তা পেঁয়াজ বাজার সংলগ্ন পানিতে ফেলে দেন। বছরের পর বছর ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদন করা ফসল এভাবে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার দৃশ্য উপস্থিত মানুষকে নাড়া দেয়। কেউ কেউ সেই মুহূর্ত ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

আরও  পড়ুন, বিশেষ অভিযানে ৭ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ মিটিয়ে এখন প্রতি মণ পেঁয়াজ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করা মানে নিশ্চিত লোকসান। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন খরচও উঠে আসে না। ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।একাধিক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “মাঠে ফসল ফলাতে আমাদের যে কষ্ট, তার মূল্য কেউ দেয় না। পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।”কৃষকের চোখের জল আর পানিতে ভেসে যাওয়া পেঁয়াজ যেন আজ একটাই প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলানো মানুষ কি কখনো তার ন্যায্য মূল্য পাবে?পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনা করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত