দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এয়োদশ নির্বাচন জনগণের আস্থার প্রতিফলন

এয়োদশ নির্বাচন জনগণের আস্থার প্রতিফলন
এয়োদশ নির্বাচন জনগণের আস্থার প্রতিফলন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি ক্ষমতার ভারসাম্য, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং জনগণের রাষ্ট্রের ওপর আস্থার প্রতিফলন। সেই ধারাবাহিকতায় বহুল আলোচিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার দাবি, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সব মিলিয়ে এই নির্বাচন দাঁড়িয়ে আছে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এয়োদশ সংসদ নির্বাচনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে বিগত কয়েকটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দেশের জনগণকে আশাবাদী করার পাশাপাশি উদ্বিগ্নও করেছে। ভোটার উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা—এই চারটি বিষয়ই এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি রেফারেন্ডাম—যেখানে জনগণ মূল্যায়ন করবে রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক পথে আছে। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তবে বাস্তবে এসব প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে—নির্বাচনের দিন নয়, বরং তার আগের পরিবেশই মূল নিয়ামক হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্ন নতুন নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে—দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এয়োদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। বিরোধী জোটের বক্তব্য, নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হয়, তবে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।

অন্যদিকে সরকার বলছে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই এবং নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। নির্বাচনের মূল শক্তি ভোটার। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। তবে তরুণ ভোটারদের একটি অংশ আবার আশাবাদী।  এই তরুণ ভোটারদের ভোটে আনার কৌশলই হতে পারে নির্বাচনের বড় ফ্যাক্টর। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা বরাবরই থাকে। পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা নিরাপত্তার নামে যেন নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। মিডিয়া নির্বাচনকে গণতন্ত্রের আয়না হিসেবে তুলে ধরে। তবে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, স্বাধীনভাবে রিপোর্ট করার ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় সব দলের সমান মিডিয়া অ্যাকসেস নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এয়োদশ জাতীয় নির্বাচন শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পাচ্ছে। উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নির্বাচনকালীন অনিশ্চয়তা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সবখানেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাব রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখছে। তবে একই সঙ্গে ভুয়া খবর, গুজব ও অপপ্রচারের ঝুঁকিও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এয়োদশ নির্বাচনে নারী ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীর প্রভাব এখনো সীমিত এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  তবে কোন পথে দেশ যাবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ওপর। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই নির্বাচন প্রমাণ করবে দেশ কতটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকার কথা। প্রশ্ন হলো জনগণ কি সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পাবে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান।

অন্যদিকে রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে জানা যায়,  দেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সামনে জাতীয় নির্বাচন যা কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্র, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার একটি বড় পরীক্ষা। আমরা বিশ্বাস করি, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে জাতিকে ঐক্যের পথে এগিয়ে নিতে। রাজনীতিবিদ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু বক্তব্য দেওয়া নয়, বরং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। জনগণ চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সমান সুযোগ এবং ভয়মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার। কোনো ধরনের সহিংসতা, অপপ্রচার বা প্রশাসনিক পক্ষপাত গণতন্ত্রকে দুর্বল করে—এটি আমরা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি।

আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। দেশের তরুণ সমাজ, শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—এই নির্বাচন যেন তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানাই। আসুন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করি। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে।

আরও পড়ুন, মব সন্ত্রাসে চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ

সম্প্রত্তি, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জাতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। তফসিল ঘোষণার পরপরই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এসেছে। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ও মাইকিংয়ে মুখর হয়ে উঠছে জনপদ। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

প্রচার-প্রচারণার প্রথম পর্যায়েই রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রকে সামনে রেখে বক্তব্য দিচ্ছে। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও হয়ে উঠেছে প্রচারের বড় মাধ্যম। নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি মেনে প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও মাঠে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। ভোটারদের প্রত্যাশা এই প্রচার-প্রচারণা যেন সহিংসতা ও অপপ্রচারমুক্ত থাকে। তারা চায় প্রার্থীদের বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি ও ভদ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার কার্যক্রম চললে নির্বাচন নিয়ে আস্থা বাড়বে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ায় রাজনীতির মাঠ আবারও সরব হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রচার কতটা ইতিবাচক ও গণতন্ত্রমুখী রূপ নেয়।

বিষয় : নির্বাচন প্রতিফলন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


এয়োদশ নির্বাচন জনগণের আস্থার প্রতিফলন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি ক্ষমতার ভারসাম্য, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং জনগণের রাষ্ট্রের ওপর আস্থার প্রতিফলন। সেই ধারাবাহিকতায় বহুল আলোচিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার দাবি, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সব মিলিয়ে এই নির্বাচন দাঁড়িয়ে আছে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এয়োদশ সংসদ নির্বাচনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে বিগত কয়েকটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দেশের জনগণকে আশাবাদী করার পাশাপাশি উদ্বিগ্নও করেছে। ভোটার উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা—এই চারটি বিষয়ই এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি রেফারেন্ডাম—যেখানে জনগণ মূল্যায়ন করবে রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক পথে আছে। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তবে বাস্তবে এসব প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে—নির্বাচনের দিন নয়, বরং তার আগের পরিবেশই মূল নিয়ামক হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্ন নতুন নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে—দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এয়োদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। বিরোধী জোটের বক্তব্য, নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হয়, তবে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।

অন্যদিকে সরকার বলছে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই এবং নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। নির্বাচনের মূল শক্তি ভোটার। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। তবে তরুণ ভোটারদের একটি অংশ আবার আশাবাদী।  এই তরুণ ভোটারদের ভোটে আনার কৌশলই হতে পারে নির্বাচনের বড় ফ্যাক্টর। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা বরাবরই থাকে। পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা নিরাপত্তার নামে যেন নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। মিডিয়া নির্বাচনকে গণতন্ত্রের আয়না হিসেবে তুলে ধরে। তবে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, স্বাধীনভাবে রিপোর্ট করার ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় সব দলের সমান মিডিয়া অ্যাকসেস নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এয়োদশ জাতীয় নির্বাচন শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পাচ্ছে। উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নির্বাচনকালীন অনিশ্চয়তা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সবখানেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাব রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখছে। তবে একই সঙ্গে ভুয়া খবর, গুজব ও অপপ্রচারের ঝুঁকিও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এয়োদশ নির্বাচনে নারী ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীর প্রভাব এখনো সীমিত এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  তবে কোন পথে দেশ যাবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ওপর। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই নির্বাচন প্রমাণ করবে দেশ কতটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকার কথা। প্রশ্ন হলো জনগণ কি সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পাবে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান।

অন্যদিকে রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে জানা যায়,  দেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সামনে জাতীয় নির্বাচন যা কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্র, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার একটি বড় পরীক্ষা। আমরা বিশ্বাস করি, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে জাতিকে ঐক্যের পথে এগিয়ে নিতে। রাজনীতিবিদ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু বক্তব্য দেওয়া নয়, বরং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। জনগণ চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সমান সুযোগ এবং ভয়মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার। কোনো ধরনের সহিংসতা, অপপ্রচার বা প্রশাসনিক পক্ষপাত গণতন্ত্রকে দুর্বল করে—এটি আমরা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি।

আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। দেশের তরুণ সমাজ, শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—এই নির্বাচন যেন তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানাই। আসুন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করি। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে।

আরও পড়ুন, মব সন্ত্রাসে চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ

সম্প্রত্তি, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জাতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। তফসিল ঘোষণার পরপরই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এসেছে। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ও মাইকিংয়ে মুখর হয়ে উঠছে জনপদ। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

প্রচার-প্রচারণার প্রথম পর্যায়েই রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রকে সামনে রেখে বক্তব্য দিচ্ছে। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও হয়ে উঠেছে প্রচারের বড় মাধ্যম। নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি মেনে প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও মাঠে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। ভোটারদের প্রত্যাশা এই প্রচার-প্রচারণা যেন সহিংসতা ও অপপ্রচারমুক্ত থাকে। তারা চায় প্রার্থীদের বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি ও ভদ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার কার্যক্রম চললে নির্বাচন নিয়ে আস্থা বাড়বে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ায় রাজনীতির মাঠ আবারও সরব হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রচার কতটা ইতিবাচক ও গণতন্ত্রমুখী রূপ নেয়।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত