সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। ভয়াবহ এ হামলার পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার, ১০ অক্টোবর, স্থানীয় সময় বেলা ৩টার দিকে বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনাল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। হামলার পরপরই বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। হামলায় প্রাণহানির পাশাপাশি বিমানবন্দরের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও পড়ুন,হ্যারিকেন ইসাইয়াসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ফ্লোরিডা ও আলাবামাক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। রোববার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে হামলাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি বলেন, বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। হুথিদের এ হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মানবিক ও নৈতিক উভয় দিক থেকেই অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে প্রতিক্রিয়ায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। বাকি পাঁচজন সৌদি আরবের নাগরিক। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিতে এ হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই হামলার জবাব দেওয়া হবে। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।