বাবা-মায়ের ফেলে যাওয়া অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশু সোহানার পাশে দাঁড়িয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া। সাংবাদিকদের করা একটি মানবিক প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শিশুটির অসহায়ত্বের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। এরপরই সোহানার চিকিৎসা, বাসস্থান, লেখাপড়াসহ সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। শিশুটির দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে তার চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও লেখাপড়াসহ প্রয়োজনীয় দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি সোহানার জন্য নতুন পোশাকও কিনে দেন তিনি। নতুন পোশাক হাতে পেয়ে সোহানার মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। অসহায় শিশুটির মুখে এমন হাসি উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সোহানার আনন্দঘন মুহূর্তটি হয়ে ওঠে মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় নরসিংদী পৌর শহরের বানিয়াছল এলাকায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সোহানার বাড়িতে যান জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহমুদুল চৌধুরী সুমনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সোহানার শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। আরও পড়ুন,লামা মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিতএ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “সোহানা আমাদের সমাজেরই একটি শিশু। তার বাবা-মা পাশে না থাকলেও সে যেন নিজেকে একা মনে না করে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তার চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও লেখাপড়াসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। শিশুটির সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” তিনি আরও বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার মানবিক দায়িত্ব। একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পারাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যেও আনন্দ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকা সোহানার পাশে জেলা প্রশাসক এগিয়ে আসায় তারা আশাবাদী। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তাঁরা মনে করেন। সোহানার চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় ও শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার এই উদ্যোগ শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের গুরুত্বও তুলে ধরেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।