দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন: ৪০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছর কারাদণ্ডের প্রস্তাব

নতুন ধারা যুক্ত করে আবারও সংশোধন করা হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন। সংশোধিত খসড়ায় গুজব, অপতথ্য, মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন—এই চার ধরনের তথ্যকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে কঠোর শাস্তির বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন ২৬/ক ধারায় বলা হয়েছে, কেউ সাইবার পরিসরে গুজব বা অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।খসড়ায় গুজবকে অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত এমন তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে বা সে ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। অপতথ্য বলতে বোঝানো হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশিত মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য।আরও  পড়ুন, গুলশান থেকে গ্রেফতার লতিফ সিদ্দিকী, আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরএ ছাড়া ২৫ নম্বর ধারায় মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন–সংক্রান্ত অপরাধ যুক্ত করা হচ্ছে। এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও, অডিও, ছবি বা সম্পাদিত কনটেন্ট ব্যবহার করে কারও মানহানি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এই শাস্তি বেড়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানায় উন্নীত হতে পারে।একাংশ বলছেন, গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট না হলে আইনটির অপপ্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের মধ্যেও এ সংশোধন নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-নির্ভর ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকানো প্রয়োজন হলেও আইনের ভাষা ও প্রয়োগে ভারসাম্য নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন: ৪০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছর কারাদণ্ডের প্রস্তাব