পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় রেলওয়ের বহুমূল্য শত বিঘা জমি দখল করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব চললেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো রেলওয়ের লিখিত অভিযোগ তিন মাসেও থানায় না পৌঁছানো এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে দখলদাররা নির্বিঘ্নে তাদের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজার ও শরৎনগর এলাকায় রেলওয়ের অন্তত ১০০ বিঘা জমি রয়েছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এসব জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা পাকা ভবন ও বিপণি বিতান নির্মাণ করে আসছেন। সম্প্রতি ভাঙ্গুড়া বাজারের সরকারি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে মনি সরকার ও তার ছয় ভাই এবং স্থানীয় বাসিন্দা নজির উদ্দিন রেলের জমিতে স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। একইভাবে শরৎনগর বাজারে গোলাম মোস্তফা নামের আরেক ব্যক্তিও তিন তলার ভিত দিয়ে ভবন নির্মাণ শেষ করেছেন।আরও পড়ুন,দীর্ঘ ছুটিতে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত সরকারগত চার মাস আগে এই অবৈধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে রেলওয়ের পাকশী অঞ্চলের নির্দেশে ভাঙ্গুড়ায় দায়িত্বরত সার্ভেয়ার আবু বক্কর সিদ্দিকী গত ১৬ জুলাই মনি সরকার ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাঠান। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলের মাঠকর্মচারী দখলদারদের কাছ থেকে ‘অনৈতিক সুবিধা’ নিয়ে অভিযোগপত্রটি গায়েব করে দিয়েছেন। যে কারণে গত ২৫ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গুড়া থানায় রেলের কোনো অভিযোগপত্র পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানিয়েছেন, রেল কর্তৃপক্ষের এমন কোনো চিঠি তাদের হাতে আসেনি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং রেলের পাকশী অঞ্চলের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। রেলের জমিতে এ ধরনের অবৈধ দখল ও অনিয়ম রোধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।