দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

গোলাপগঞ্জে ক্লিনিকে হামলার অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা লুটের দাবি; আটক ২

 সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ঢুকে প্রতিষ্ঠাতাকে পিটিয়ে আহত করা এবং নগদ ৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের কুশিয়ারা মেডিকেল ক্লিনিকে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রুহেল আহমদ ও নুর মোহাম্মদ তারেক নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। আটক ব্যক্তিরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত ক্লিনিক পরিচালককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর ভাদেশ্বর ইউনিয়নের তাদেশ্বর বাজারসংলগ্ন কুশিয়ারা মেডিকেল ক্লিনিকে এই হামলা চালানো হয়। আহত ক্লিনিক পরিচালকের নাম মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জুনু। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারীর দাবি, ক্লিনিক পরিচালনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর জের ধরেই গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে সংঘবদ্ধভাবে ক্লিনিকে প্রবেশ করে একদল হামলাকারী। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে মারাত্মক জখম হয়। আরও  পড়ুন, সিলেটের কানাইঘাট থানা পুলিশের অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারএ সময় ক্লিনিকের কয়েকজন কর্মচারী তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। হামলা চলাকালে ক্লিনিকের বিভিন্ন আসবাব ও মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা লুটের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগী ও কর্মচারীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ধাওয়া দিয়ে রুহেল আহমদ ও নুর মোহাম্মদ তারেক নামের দুজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ একদল পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে আটক দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, "আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্যাডাররা এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। আমি আহত হওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। পরে সুশীল সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। অভিযোগ করার পর থেকেই আমাকে সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।" স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, আটক হওয়া রুহেল ও তারেক স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের পদধারী। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আটক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

গোলাপগঞ্জে ক্লিনিকে হামলার অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা লুটের দাবি; আটক ২