দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, গোবিন্দগঞ্জে স্বামীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

 দরবস্তু ইউনিয়নের  মারিয়া গ্রামের মোহাম্মদ খলিলুর রহমান মন্ডলের আদরের কন্যা তাসলিমা খাতুন তিশা হত্যা মামলা রেকর্ড, সুষ্ঠু তদন্ত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা গেছে, ২২ শে আগস্ট ২০২৬ বেলা ১২ ঘটিকায় তাসলিমার পিতা খলিলুর রহমান এর নেতৃত্বে এলাকার কয়েকশত নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে যৌতুক লোভী  ও পরকীয়ার জের ধরে সৈনিক স্বামীর হাতে পরিকল্পিতভাবে নিজ মেয়ে তাসলিমা আক্তার তিশাকে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।নিহত তাসলিমার বাবা মোঃ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে ভুক্তভোগী পরিবার, এলাকার নারী সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তব্য রাখছেন সাদিকুল ইসলাম, সাজু মিয়া, ফরহাদ মন্ডল, সহ......নিহতের পিতা মোঃ খলিলুর রহমান জানান, আমার মেয়ে মোছাঃ তাসলিমা আক্তার তিশাকে ২১/০৭/২০২৩ ইং তারিখে ঠাকুরগাঁও জেলার ভুল্লী থানার লাউযুথি গ্রামের আনিসুরের পুত্র সাথে বিবাহ দেই। বিয়ের সময় ৩ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয় যার মধ্যে দুই হাজার টাকা নগদ এবং ২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা বাকি রাখা হয়। বিয়ের সময় প্রায় ২ লক্ষ দিকটা কার আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার উপঢোক্ষণ হিসেবেআরও  পড়ুন, রূপসায় জয় ঢালী হত্যা: ৭ দিনের মাথায় রাজধানীতে ‘হোতা’ হৃদয় গ্রেপ্তারদেওয়া হয়। হাওলাত স্বরূপ তিন লক্ষ বিশ হাজার টাকা জুবায়দুর রহমান জমি ক্রয়ের কথা বলে খলিলুর রহমানের নিকট থেকে  নিয়ে যায়।বিয়ের পর থেকেই আসামীরা যৌতুকের জন্য আমার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০/১২/২০২৩ তারিখে আমার মেয়েকে নির্যাতনের শিকার হয়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তায় মুমূর্ষু  অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কাগজে ডাক্তার "Domestic Violence" ও "Blunt trauma to head" শারীরিক এসাল্ট H/O পুলিশ কেস লেখা রয়েছে। তারপরও বিভিন্ন সময়ে ও তারিখে জোবায়দুর রহমান কর্তৃক তাসলিমা কে যৌতুকের দাবিতে এবং ঘর-সংসার করবে না মর্মে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন।  আরো উল্লেখ থাকে যে, জুবায়দুল এর বাবা চাচা এবং জুবায়দুর সালিশ দরবারে অঙ্গীকার করে বলেন যে যৌতুক দাবি করবেন না এবং তিশাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে সংসার করবেন মর্মে ঢাকায় নিয়ে যায়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ঢাকায় থেকে যৌতুক লোভী পরকিয়া আসক্ত বহু নারী লোভী জুবায়দুর রহমান তাসলিমা কে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। আরও  পড়ুন, ভেড়ামারায় শিশুর মিউ মিউ জলাতঙ্ক নয় প্যানিক অ্যাটাকএরপর গত ৩১/১২/২০২৫ তারিখ সকাল ৪:৪৫ মিনিটে আমার মেয়েকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার সকাল ৮.১৫ ঘটিকায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তাসলিমা হত্যার সংবাদ জুবায়দুর রহমান সাড়ে ছয়টায় তার শশুর শাশুড়িকে মোবাইলে নিশ্চিত করেন। প্রশ্ন থেকে যায় হাসপাতালে মৃত্যুর সময়ের পূর্বেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তাসলিমার স্বামী জোবায়দুর।ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানান হাসপাতলে ভর্তি নেওয়ার সময়,  পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সময়, সর্বোপরি  লাশ ঠাকুরগাঁও থেকে বাবার বাড়ি মারিয়া গ্রামে দাফন কাফন এবং দোয়ার জেনেও জোবায়দুল এবং তার পরিবার অংশগ্রহণ করেনি । পোস্টমর্টেম রিপোর্টেম মাথায় ৪x৪ সে.মি. আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভুল্লী  থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা নং- ৩৭/২৫ রুজু হলেও ৮ মাস অতিবাহিত হলেও মামলার কোন অগ্রগতি নেই।মানবন্ধনে খলিলুর রহমান মন্ডল ও  বক্তারা বলেন:স্বামী জোবায়দুর রহমান একজন সৈনিক সদস্য নং ১২৪৫২৯০, সৈনিক ডিএমটি এবং কিউবেক ৭ ফিল  রেজিমেন্ট আর্টিলারি  বর্তমান কর্মরত সাভার ক্যান্টমেন্ট এ তিনি দেশ সেবার নামে  পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই।মানবন্ধন থেকে ৩ দফা দাবি জানানো হয়:ভুল্লী থানার অপমৃত্যু মামলা নং- ৩৭/২৫ কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে হবে।এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে হবে।দোষী স্বামী  জুবায়দুর রহমান ও তার পরিবারের সকল সদস্যের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।উক্ত মানববন্ধন ও  বিক্ষোভ মিছিল এ তাসলিমার মা, ভাই-বোন সহ এলাকার শত শত নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, গোবিন্দগঞ্জে স্বামীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ