লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বদলে দিয়েছে ঝিনাইদহের মিশন আচার্যের ভাগ্য। দীর্ঘ জটিলতা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন তিনি।বুধবার সকালে মিশন আচার্যের মায়ের হাতে তাঁর চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এ সময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে সরকারি শিক্ষক হওয়ার জন্য মিশনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে।জানা যায়, ঝিনাইদহ পৌর শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন মিশন আচার্য। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। নিয়োগের চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্তও এগিয়ে যান। তবে ভেরিফিকেশনের সময় স্থায়ী ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাঁর নিয়োগ আটকে যায়।চাকরির পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণ করার পরও শুধুমাত্র স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি মিশন ও তাঁর পরিবারের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।আরও পড়ুন, ধানের ন্যায্যমূল্য নেই, চালের বাজারে দামের উত্তাপএ অবস্থায় মিশন আচার্যের নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের। পরে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।এরপর মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরেও যোগাযোগ করা হয়। ধারাবাহিক উদ্যোগের পর শেষ পর্যন্ত মিশনের নিয়োগের জটিলতা কাটে এবং তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র।বুধবার সকালে নিয়োগপত্র হস্তান্তরের সময় মিশনের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন তাঁরা।মিশন আচার্যের ঘটনাটি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্যও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় একজন প্রার্থীর নিয়োগ আটকে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নও উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক ও সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্যোগে সেই জটিলতার অবসান হয়েছে।মিশনের পরিবারের জন্য এটি শুধু একটি চাকরির নিয়োগপত্র পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার পর একটি স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। ভাড়াবাড়িতে বসবাস করেও নিজের যোগ্যতায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া মিশনের জন্য নতুন জীবনের সূচনা করেছে।নিয়োগপত্র পাওয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরুর পথ খুলেছে মিশন আচার্যের। তাঁর পরিবারও আশা করছে, যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।