দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রাজস্ব বৃদ্ধি ও সুশাসনের ওপর বিশেষজ্ঞদের জোরালো তাগিদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু সরকারি ঋণ প্রায় দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে অর্থ বিভাগের প্রাক্কলনে উঠে এসেছে। আগামী জুনের মধ্যে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১৭ কোটি ৬০ লাখ বিবেচনা করলে জনপ্রতি এই ঋণের গড় পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানান, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মাথাপিছু সরকারি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা, যা অর্থবছর শেষে আরও ২১ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। উল্লেখ্য, এটি কোনো ব্যক্তিপর্যায়ের প্রত্যক্ষ ঋণ নয়, বরং সরকারের সংগৃহীত মোট ঋণকে দেশের জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত একটি গড় গাণিতিক হিসাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,আরোও পড়ুন,দেশের বাজারে ফের কমল সোনার দাম গত জুন পর্যন্ত দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই সরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। বাজেট ঘাটতি মেটাতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশীয় সহায়তার নতুন অর্থছাড়ের তুলনায় পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় আড়াই গুণ বেশি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ধিত ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যবহারের পাশাপাশি সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

রাজস্ব বৃদ্ধি ও সুশাসনের ওপর বিশেষজ্ঞদের জোরালো তাগিদ