বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ গবেষণা এবং প্রদর্শনী শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বারোপ করেন দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার গুলশানে বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) কার্যালয়ে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) একাডেমির দুই সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিসিসিসিআই নেতাদের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সিসিপিআইটি একাডেমির প্রেসিডেন্ট ঝাও পিং প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় বিসিসিসিআইয়ের মহাসচিব জামিলুর রহমান তাঁদের স্বাগত জানান।বৈঠকে ঝাও পিং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৃহৎ ভোক্তা বাজার, জনমিতিক সম্ভাবনা এবং ব্যবসায়িক সুযোগের প্রশংসা করেন। দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে গবেষণায় বিসিসিসিআইয়ের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকেও স্বাগত জানান তিনি। পাশাপাশি চীনের নীতি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বাণিজ্যিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিতে সিসিপিআইটি একাডেমির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।আরও পড়ুন, ভারতে পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে নিট বিনিয়োগআলোচনায় বাংলাদেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংরক্ষণাগার নির্মাণ, ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা উঠে আসে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এ ছাড়া চট্টগ্রামের প্রদর্শনীকেন্দ্রের অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌরশক্তি ও খাদ্যপণ্যের বিশেষায়িত প্রদর্শনী আয়োজন এবং বিভিন্ন খাতে যৌথ গবেষণার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।বিসিসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের দুই প্রতিষ্ঠানের এক দশকের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সিসিপিআইটির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।বৈঠকে বিসিসিসিআইয়ের সহসভাপতি খন্দকার আতিকুর রহমান ও মাসুদ আলী খান, উপদেষ্টা মো. ফয়জুল আলম এবং পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ এবং প্রদর্শনী শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরিতেও এ সহযোগিতা ভূমিকা রাখবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।