লামায় বন রক্ষায় সদর রেঞ্জারের কঠোর অবস্থান
বান্দরবানের লামা উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে লামা সদর রেঞ্জ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বনজ সম্পদ রক্ষা, অবৈধভাবে গাছ কাটা ও বনজ সম্পদ পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করেছেন লামা সদর রেঞ্জার কে এম কবির। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর বনাঞ্চলের পরিবেশ ও সবুজায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় লামার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় রাতের আঁধারে গাছ কাটা ও বনজ সম্পদ পাচারের অভিযোগ ছিল নিয়মিত। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনজ সম্পদ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে বন বিভাগের নজরদারি ও অভিযানের কারণে এসব কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে।বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লামা সদর রেঞ্জের আওতাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় নিয়মিত টহল, অবৈধভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধে অভিযান এবং বনজ সম্পদ পরিবহনের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।‘বন রক্ষায় কোনো আপস নয়’লামা সদর রেঞ্জার কে এম কবির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বন রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন। তাঁর ভাষ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি রাষ্ট্রের সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।তিনি বলেন, “বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। যত বাধা বা চাপই আসুক, অবৈধ গাছ কাটা, বনজ সম্পদ পাচার ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করে যাব।আরও পড়ুন, প্রকৃতিই আমাদের রক্ষা করবে, তাই বৃক্ষরোপণকে গুরুত্ব দিতে হবে : শিরীন সুলতানা এমপি”কঠোর অবস্থানে ক্ষুব্ধ অবৈধ ব্যবসায়ীরা?বন বিভাগের অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর কারণে অবৈধ বনজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে সদর রেঞ্জারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁকে হয়রানি ও দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।লামা সদর রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রেঞ্জার কে এম কবির যোগদানের পর বন বিভাগের তৎপরতা আগের তুলনায় দৃশ্যমান হয়েছে। গাছ কাটার বিরুদ্ধে অভিযান ও বনজ সম্পদ পরিবহনে নজরদারি বাড়ায় অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে।একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বন রক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল আরও সবুজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশসমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। তবে শুধু অভিযান নয়, বনাঞ্চল রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা কার্যক্রমও বাড়ানো প্রয়োজন।সংরক্ষিত বন রক্ষায় প্রয়োজন ধারাবাহিকতালামার পাহাড়, বন ও জীববৈচিত্র্য স্থানীয় পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বিচারে গাছ কাটা ও বনজ সম্পদ পাচার অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাটি ক্ষয়, পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন রক্ষায় একজন কর্মকর্তার কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা। অবৈধ বনজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে লামার সংরক্ষিত বনাঞ্চল আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, লামা সদর রেঞ্জের বর্তমান তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং কোনো চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় বন বিভাগ তাদের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে বন রক্ষার নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।